অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রফেসর ইউনূস। ছবি : ইউনূস সেন্টার

নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এ বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে স্পেন ভ্রমণ করেন যেখানে দেশটির স্যান্টান্ডার নগরীতে অবস্থিত ক্যান্টাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট (Doctor Honoris Causa) ডিগ্রী প্রদান করে।

জুলাই ৬ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে এই ডিগ্রী প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য যে, স্পেনের মহামান্য রাজার নয়নাভিরাম গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদটিকে ১৯৩৬ সালে ক্যান্টাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়।

প্রফেসর ইউনূসকে প্রদত্ত আড়ম্বরপূর্ণ এই ডিগ্রী প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রসহ নগরীর বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ। ডিগ্রী গ্রহণসূচক ভাষণে প্রফেসর ইউনূস অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভ্যাগতদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে নতুন প্রজন্ম ও পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর পুঞ্জীভূত জ্ঞানের সংযোগস্থল। তিনি বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি স্থান যেখানে ভ্রান্ত তত্ত¡ ও ধারণাগুলোকে চুরমার করে নতুন নতুন তত্ত¡ ও ধারণা গড়ে তোলা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রচলিত অর্থনৈতিক তত্ত্বের ক্রুটিই দারিদ্র, বেকারত্ব, সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো সমস্যাগুলো তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হচ্ছে এই অর্থনৈতিক তত্ত্বের পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সমাজের এসব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করা।’

প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে অনুষ্ঠানে যোগদানকারীরা যাতে আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ “A World of Three Zeros” এর স্প্যানিস অনুবাদের কপি সকল অংশগ্রহণকারীর মধ্যে বিতরণ করেন।

আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত সৌন্দর্যমন্ডিত স্যান্টান্ডার নগরীতে প্রফেসর ইউনূসের অবস্থানকালে সেখানকার দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ক্যাম্পাসে “ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার” প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় এবং এ লক্ষ্যে ইউনূস সেন্টারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে। বিশ্ববিদ্যালয় দু’টি হচ্ছে ক্যান্টাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও মুরসিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথিবীর ৩১টি দেশে বিস্তৃত ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার নেটওয়ার্কে এই দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে ৭৭তম ও ৭৮তম সংযোজন।

স্যান্টান্ডার থেকে প্রফেসর ইউনূস মাদ্রিদে গমন করেন যেখানে নগরীর মেয়র হোসে লুইস মার্টিনেজ আলমেইদা সহ স্থানীয় নেতৃস্থানীয় পেশাজীবি, শিল্পপতি ও সমাজকর্মীগণ তাঁর সম্মানে একটি উচ্চ পর্যায়ের সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সরকারী ও বেসরকারী খাতের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন যাঁদের মধ্যে ছিলেন ইউরোক্যাপিটাল অ্যাডভাইজার্স এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পাবলো আলোনসো, কাইক্জা-ব্যাংকের হেড অব ফিলানথ্রপি আরমানদো ফান্দোজ সুয়ারেজ, কনশাস্নেস ফর হ্যাপিনেস এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফেলিসিদাদ ক্রিস্টোবাল, কোবাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া পারামেস, ভি-থ্রি-লির্ডাস এর প্রতিষ্ঠাতা মানুয়েল মারকুয়েজ, ওপেন ভ্যালু ফাউন্ডেশন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া অ্যাঞ্জেলেস লিয়ন, আফ্রিকা ডাইরেক্ট এর প্রতিষ্ঠাতা হোসে মারিয়া মারকুয়েজ, জাতি সংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের প্রেসিডেন্ট অব অনার অ্যান্টোনিও র্গারিগুয়েজ এবং পিপলস ইউনাইটেড এর স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ব্রিজিদা মোরেতা।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, যুব বেকারত্ব, পপুলারিজমের উত্থান, সামাজিক ব্যবসার ভবিষ্যৎ, প্রচলিত পুঁজিবাদের ভবিষ্যৎ, সমাজে ব্যবসার ভূমিকা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে প্রফেসর ইউনূসের সাথে মত বিনিময় করেন।