কেটে দেয়া বাঁধ দেখছেন এক কৃষক।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের দেওচাপড়া, কাপনাকান্দি, ঘাটেরচটি মৌজার হাওরে বোরো ধান আবাদের জন্য ফুয়াদ মোরী ছড়ায় বাঁধ নির্মাণ করে জমিতে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র মাটি ব্যবসায়ী বাঁধটি রাতের আঁধারে কেটে দেয়ায় ছড়ার পানি শুকিয়ে গেছে। যে কারণে প্রায় ৪শ’ একর জমিতে পানি সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দুষ্কৃতিকারীরা গত ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার গভীর রাতে এ বাঁধটি কেটে দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষকরা বলেছেন, আমাদের জমিতে বোরো ধান চাষ খুব ভালো হয়েছিলো কিন্তু ফুয়াদ মোরী ছড়ার বাঁধ কাটার পর থেকে আমরা সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ভালো ফলনের আশা করতে পারচ্ছি না। দ্রুত ফুয়াদ মোরী ছড়ার বাঁধটি ভরাট করা না হলে ৪শ’ একর জমি পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে ফসল নিয়ে চরম উদ্বেগে আছেন ৫ টি গ্রামের কৃষক।

ঘাটেরচটি এলাকার কৃষক রইছ আলী বলেন, কয়েক হাজার কৃষকের দুর্ভোগ ও ফসলহানির কথা চিন্তা না করে কয়েক জন দুষ্কৃতিকারী মাটি ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসার কথা চিন্তা করে সরকারি খাস জমিসহ কৃষি জমি খনন করে রাতের আঁধারে মাটি নেয়ার জন্য ফুয়াদ মোরী ছড়ার বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এ বাঁধটি কেটে দেয়ায় ২০একর জমির বোরো ধানের চাষ নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় উপকারভোগী কৃষকদের দাবি, বোরো ধান আবাদের জন্য ছড়ায় বাঁধ নির্মাণ করে জমিতে পানির ব্যবস্থা করা হয়। এই বাঁধটি দ্রুত ভরাট করা না হলে জমিতে বোরো ধান আবাদের জন্য পানি দেয়া সম্ভব হবে না। এখানে রয়েছে ৩টি হাওরের (দেওচাপড়া, কাপনাকান্দি, ঘাটেরচটি) প্রায় ৪শ’ একর বোরো ফসলি জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষি জমিসহ খাস গোসর জমি খনন করে মাটি বিক্রয় করছে।

কেটে দেয়া বাঁধ।

উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের কৃষক আফতাব আলী বলেন, দেওচাপড়া, কাপনাকান্দি, ঘাটেরচটি এলাকার হাওরের জমিতে পানি না থাকায় মাটি ফাটল ধরা দিয়েছে এবং চারাগুলো হলুদ রং রুপ নিয়েছে। কিন্তু মাটি ব্যবসায়ীদের নামে কিছু দুষ্কৃতিকারী তাদের নিজেদের কথা চিন্তা করেই রাতের আঁধারে বাঁধটি কেটে দেয়। এখন অসহায় গরীব বোরো চাষীদের পরিবার গুলো আবারও হাওরতীরে বসেই চোখের পানি ফেলছেন।

এদিকে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত মাটি ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন বলেন, চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি এলাকায় ছড়ার বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনাটি সত্য। কিছু দুষ্কৃতিকারী ছড়ার বাঁধ কেটে দিয়েছে। আমরা বাঁধটি ভরাটের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। দ্রুত বাঁধ ভরাটের কাজ শুরু করা হবে। এখানকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার লিষ্ট করা হবে। দুষ্কৃতিকারীদের আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিমকে একাদিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নাজমুল ইসলাম/জৈন্তাপুর/সিলেট