সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের কামরাঙ্গীখেল দক্ষিণ মৌজার সরকারি খাঁস শ্রেণীর ভূমি নিয়ে নয়াখেল পূর্ব, উত্তর, কামরাঙ্গীখেল দক্ষিণ, ভিত্রিখেল উত্তর মৌজার ভূমিহীন গ্রামবাসী ও চা-বাগান কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন হতে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে আসছে।

এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভিন্ন ইউপি সদস্যসূত্রে জানাযায় স্বাধীনতার পূর্ব হতে বাউরী টিলার (সরকারি খাঁস শ্রেণীর) ভূমিতে উল্লেখিত গ্রামের ৪৩টি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস সহ খাদ্য শষ্য, ধান চাষ ও বিভিন্ন প্রকার ফসলাদী ফলিয়ে আসছে।

বিগত ২০১৫ সনে লালাখাল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ বাউরী টিলার ভূমি তাদের দাবী করে ২টি মামলা দায়ের করে।

দায়েরকৃত ২টি মামলার পক্ষে বাগান কর্তৃপক্ষ আদলাতে বাউরী টিলার ভূমি কোন কাগজপত্র আদালতে দাখিল করতে না পারায় বেকসুর খালাস পায় ৪৩টি পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ ২টি মামলায় পরাজিত হয়ে ২০১৬ সনের ২৪শে অক্টোবর বিভিন্নভাবে নানা প্রকার অযুহাত সৃষ্টি করে বাউরী টিলার বসতবাড়ী পুড়িয়ে দেয়া, তাদের সৃজিত আম, জাম, কাঠাল, লেবু, সুপারী সহ বিভিন্ন প্রজাতীর ফসলী বাগান ধংস করা, জমির খাদ্যশষ্য নষ্ট করা সহ লাটিয়াল বাহিনী দিয়ে হামলা চালায় বাড়ীঘর ধংস ও পুড়ে ফেলে বাউরী টিলার ৪৩পরিবারের প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এঘটনায় তৎকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও সিলেটের স্থানীয় সংবাদপত্র ও বেসরকারী টেলিভিশনে স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়।

এঘটনায় ৪এপ্রিল ২০১৯ সনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুনানিকালে বাউরী টিলার ভূমি সমুহ সরকার বাহাদুর লীজ বাগান কিংবা গ্রামবাসীদের কাউকে লীজ বা ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি মর্মে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক সিলেটের নামে রয়েছে বলে উপস্থাপন করা হয়।

এছাড়া গ্রামবাসী দীঘদিন যাবৎ দখলদার হিসাবে বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার আবেদন করেন বলে জানান এবং আবেদনের কপি উপস্থাপন করেন।

কিন্তু তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজ্ঞাত কারনে শতকোটি টাকার মালিকের পক্ষলম্বন করে বাউরী টিলার ভূমি দখলে দিতে চান বলে প্রতিয়মান হয়।

এদিকে ভূমিহীন পরিবারের পক্ষে তাদের দখলিয় ভূমিতে বসতঘর পুড়ে ফেলা, ফসলাদী নষ্ট করা লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে দখলের চেষ্টা কারার ফলে সিলেটের সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে মামলা দয়ের করেন (মামলা নং ১৮/২০১৯) গ্রামবাসীরা।

মামলাটি ˆজন্তাপুর মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। অপরদিকে গ্রামবাসীরা ভূমি আইনে সহকারি জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন যাহার নং (৪৬/২০১৮)।

অপরদিকে নানা কৌশলে গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ করেত গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ই্ং তারিখে বাগান কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীর ৫জনকে আসামী করে জৈন্তাপুর মডেল থানায় নন এফ আই আর প্রসিকিউশন ০১/২০২০ দাখিল করে।

যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির অপচেষ্টায় চালাচ্ছে বলে সরেজমিনে দেখা যায়।

বিষয়টি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা হতে পরিত্রান চায় এলাকাবাসী।

-নাজমুল ইসলাম