উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী, লক্ষীপুর, আমবাড়ী সহ কয়েকটি গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নাপিত খাল ও কলসী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার পথে নদী তীরবর্তী বসবাসরত প্রায় ৩শত পরিবারের মানুষের বসতবাড়ী ৩টি মসজিদ, ১টি স্কুল, ১টি মাদ্রাসা এবং ২টি কবরস্থান সহ গ্রামীন রাস্তাঘাট। বর্ষা মৌসুমে ভারতের উজান আসা বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের এবং এই নদী পথ দিয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত ইঞ্জিন নৌকা চলাচলের ফলে প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী বসবাসরত কৃষকদের বাড়ী গাছপালা, বাশঁ বাগান ও কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। নাপিত খালের তীরবর্তী লক্ষীপুর-ডুলটিরপার গ্রামীন রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গার নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে কৃষি জমিতে বালু প্রবেশ করে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষ নদী ভাঙ্গনের কবলে পরিবার পরিজন নিয়ে নদীর উভয় তীরবর্তী বাসিন্দাগণ আত্মংকের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাগণ অভিযোগ করেছেন বন্যার পানিতে নদী ভাঙ্গনের পাশাপাশি প্রতিদিন ডুলটিরপার এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০/৪০ টি ইঞ্জিন চালিত বড় বড় নৌকা চলাচলের ফলে প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিবার্হী অফিসারের নিকট ইঞ্জিন নৌকা চলাচল বন্ধের দাবী জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এই নিয়ে লক্ষীপুর, কেন্দ্রী, নলজুরী, আমবাড়ী এবং ডুলটিরপার এলাকার জনগনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। স্থানীয় জনসাধারণ দাবী করেছেন নাপিত খাল ও কলসী নদী দিয়ে প্রতিদিন রাতে এসব ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে চেরাকারবারীরা ভারতীয় অবৈধ ভাবে গাড়ীর টায়ার, স্প্রীং, পাত, অফিসার চয়েস মদ, ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, চা-পাতা, চকলেট, সুপারী, ইয়াবা, ভারতীয় শাড়ী, মোবাইল সামগ্রী নৌকা বুঝাই করে চলাচল করছে। ছোট নদী পথ দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচলের ফলে সৃষ্ট টেউ এর কারনে নদীর দুই তীরের রাস্তা ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী প্রায় ৩শত পরিবার প্রশাসনের নিকট এসব ইঞ্জিন নৌকা চলাচল বন্ধের দাবী জানান।

এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জৈন্তাপুর মডেল থানার এস.আই আজিজুর রহমান ১৮ আগষ্ট রবিবার সরেজমিন পরিদর্শন করেন। নাফিতখাল নদীর ভাঙ্গনের কবলে গ্রামের ২টি কবরস্থান, ১স্কুল, ১টি মাদ্রাসা, ৪টি মসজিদ সহ গ্রামীণ রাস্তা এবং বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। নদীর দক্ষিণ ও উত্তর পার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। সরজমিনে পরিদর্শন কালে স্থানীয় বাসিন্দাগণ নদীর ভাঙ্গনের বিষয়ে তাদের দুঃখ-বেদনার কথা জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদীর উভয় পারের ভাঙ্গন অংশে ব্ল¬ক স্থাপনের অনুরোধ জানান। বিগত বছরের বন্যায় নাফিত খালের দক্ষিন পাড় এর গ্রামীন রাস্তার অন্তত ১হাজার মিটার নদী গভে বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসী ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর অর্থায়নে বালুর বস্তা দিয়ে নদী ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। নদীর দুই তীরবর্তী এলাকায় অন্তত ৩/৪শত পরিবারের লোকজন বসবাস করেন।

জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান জানান, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা হাওর ও নদী বেষ্টিত হওয়ার পাহাড়ী ঢল ও বন্যার পানিতে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষের বসত ভিটা ও কৃষি জমি রক্ষা করতে তিনি নদীর ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ স্থাপন কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢল ও বন্যার পানিতে নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে হচ্ছে। নদী তীরবর্তী জনগনের বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী ভাবে সমাধান করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধঁ নিমার্ণ কাজে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর, কেন্দ্রী, আমবাড়ী, নলজুরী রাংপানি সহ অন্যান্য এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধ করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্ধা হুমায়ুন কবির, দিলাল আহমদ, নজির আহমদ জানান, বর্ষার মৌসুমে পরিবার পরিজন নদী ভাঙ্গনের ভয়ে আতংকের মধ্যে বসবাস করতে হয়। ইতোমধ্যে গ্রামের ২টি সামাজিক কবরস্থান, গ্রামীন রাস্তা নদী গর্ভে চলে গেছে। গ্রামের জনসাধারনের সমন্বয়ে বাশেঁর খুটি দিয়ে রাস্তা ও মানুষের বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইঞ্জিন নৌকা চলাচলের কারনে ভাঙ্গন রোধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের নিকট জোর দাবী নাফিত খাল নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা দ্রুত বন্দ করার প্রদক্ষেপ গ্রহন করে এলাকাবাসীকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহনের।

আজকের পত্রিকা/নাজমুল ইসলাম/জৈন্তাপুর প্রতিনিধি