বিখ্যাত চিত্রশিল্পী সাল্ভাদর ডালীর স্বপ্ন নিয়ে আঁকা চিত্রকর্ম। ছবি-সংগৃহীত

অনেকেই জানেন নিশ্চয়ই জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় আমরা ঘুমিয়ে থাকি। ঘুম ভালো রাখে আমাদের শরীর, মন উভয়কেই। তাই অনেক সময় নষ্ট হয় বলে ঘুমকেও একদম হেলায় ফেলে দেয়া যায়না। কিন্ত ঘুমের মাঝে আমরা কত কী না স্বপ্ন দেখি! কত অদ্ভুত স্থানেই না বিচরণ করি। তবে সে অদ্ভুত জায়গাগুলো, সেই অনুভূতিগুলো মনে থাকে ক’জনের? অথচ সেগুলো কিন্তু যথেষ্ট জরুরি কারণ ওগুলো আমাদের অবচেতন মনের আকাঙখা। যেগুলো হয়তো জীবনকে দিতে পারতো নতুন কোনো অনুপ্রেরণা। আজ চলুন জেনে নেই এমন কিছু উপায় যেগুলো আপনার স্বপ্নের কথা মনে করাতে সাহায্য করবে।

১. আপনি যদি স্বপ্ন নিয়ে খুব চিন্তিত থেকে থাকেন এবং ঘুম থেকে উঠে সেই স্বপ্নটি স্মরণ করার প্রচণ্ড চেষ্টা করেন তবে আপনি পরবর্তী স্বপ্ন মনে করার প্রস্তুতিস্বরুপ পরদিন একটি ফ্রেশ ঘুম দিন। যখন একটি ঘুম পরিপূর্ণ হয় তখন খুব সহজেই স্বপ্নের কথা মনে পড়ে যায়। সে কারণে সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ঘুম প্রয়োজন। গবেষকরা বলেন, ঘুমানোর প্রথম ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যবর্তী স্বপ্নগুলো হয় স্মৃতি থেকে। যেকারণে অন্তত ৮ ঘণ্টা একটানা ঘুমালে স্বপ্নের কথা খুব সহজে মনে পড়ে যায়।

২. কখনো কখনো এমন হয়, হঠাৎ কোনো স্বপ্ন অর্ধেক অবস্থায়তেই ঘুম ভেঙে যায় এবং পুনরায় ঘুমালে আবার ওই স্বপ্ন ভুলে যেতে হয়। গবেষকরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার স্বপ্ন পূর্ণ না হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুম ভাঙলেও চোখ না খুলতে। চোখ বুজে সে স্বপ্নেই থাকতে এবং তাতে করে পরবর্তীতে ঘুম ভাঙার পর স্বপ্নটি পরিপূর্ণ রূপে একটি ডায়েরিতে সে গল্পটি লিখে রাখতে। যাতে করে আপনার অবচেতন মনের গল্পটি না হারিয়ে যায়। সে কারণে আপনার বিছানার পাশেই রাখুন একটি ডায়েরি আর কলম। কারণ অনেকসময় বিভিন্ন স্ট্রেসের কারণে আমরা তৎক্ষনাত স্বপ্নটিও ভুলে বসে থাকি।

৩. স্বপ্ন দেখা শেষে যখন আপনি ঘুম থেকে উঠে দাড়ান ঠিক তখনই নিজেকে একটি রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন যে স্বপ্নটি মাথায় রেখো। খুব অদ্ভুতভাবে আপনার মাথায় স্বপ্নটি থেকে যাবে। স্বপ্ন মনে রাখার ক্ষেত্রে এই ট্রীক্সটি কাজে লাগে সবচেয়ে বেশি। অথবা ছোট একটা কাগজে লিখে রাখুন, “আমি আমার স্বপ্নটি মনে রাখতে পারছি।“ আপনি যখনই সে কাগজে চোখ বোলাবেন আপনাতেই আপনার স্বপ্নটি আপনার মনে পড়বে।

৪. এমন অনেকেই আছেন যারা স্বপ্ন দেখামাত্রই চোখ বন্ধ অবস্থায় স্বপ্ন মনে রেখে ফেলতে পারে। কিন্তু অন্যদের বেলায় একটি স্বপ্ন নোঙর ফেলে রাখতে হয়৷ যেমন ঠিক ঘুম ভাঙতেই একটি নির্দিষ্ট বস্তুকে লক্ষ্য করে একটা চিহ্ন দিয়ে রাখা৷ যাতে করে পরবর্তীতে আপনার ওই নির্দিষ্ট বস্ত দেখা নাগাদ আপনার স্বপ্নটি মনে পড়ে যাবে। এর বিভিন্ন প্রমাণ গবেষক রা নানান ধরণের মানুষের উপর করে দেখে ফলাফল পেয়েছেন। সেই নোঙর বস্তুটি হতে পারে একটি মোমবাতি অথবা ল্যাম্প অথবা একটি গ্লাস যেমন ইচ্ছে তেমন। সেই নোঙর আপনার স্বপ্নটির কথা সুন্দর করেই মনে করিয়ে দিবে আপনাকে।

৫. যদি কারো পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে তবে তার স্বপ্নের নিখুততা থাকে বেশি। অর্থাৎ স্বপ্নের খুটিনাটি ও খুব স্পষ্টভাবে মনে থাকে এমন কিছু মানুষের। আপনি যদি নিয়মিত আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে থাকেন তাহলে সেটি আপনার স্বপ্ন স্মরণ করিয়ে দেয়। এক অবসর বিকেলে জানালার দিকে তাকিয়ে দেখুন, আর ভাবুন আপনি স্বপ্ন দেখছেন। খুব ভালোমতো দেখুন জানালার ওপাশের রঙ কী? কোন ঋতুকাল চলছে? বসে থাকা মানুষটা কী ভাবছে? বাচ্চা শিশুটি কীভাবে হাঁটছে? আপনি কি কিছু অনুভব করতে পারছেন? এভাবে আপনার ভাবনাগুলো দিনলিপিতে লিখে ফেলুন। শিরোনাম দিন স্বপ্ন। নিয়মিত এই অভ্যাসের পরপর পাওয়া যায় এক অদ্ভুত ফলাফল। ঠিক এমন করে স্বপ্নের খুটিনাটি ও বলে দিতে পারে পর্যবেক্ষণ প্রখর কিছু মানুষজন।

৬. যে স্বপ্নগুলো খুব আকষর্ণীয়, উত্তেজনাপূর্ণ আর প্রাণবন্ত সে স্বপ্নগুলো মনে রাখা সহজ। সে কারণে যেকোনো স্বপ্নকে প্রাণবন্ত করতে পারলে সে স্বপ্ন মনে রাখা যায় ঝট করে। গবেষকরা সে কারণে বলেন, নিদ্রা ভঙ্গের পরপর আকর্ষণীয় কিছু করলে রাতে দেখা স্বপ্নগুলো মনে পড়ে সহজেই৷ অথবা আপনি যদি রেগুলার ব্যস্ত রুটিনে খুব হাপিয়ে উঠে পড়েন তাহলে কোথাও ঘুরতে যান, অথবা নতুন কিছু করুন। তাতে আপনার মন ভালো থাকবে আর সতেজ মন আপনার তীক্ষ্ণতা শক্তি বাড়াবে। আপনার পুরাতন স্টাইল চেঞ্জ করে নতুন ধাঁচের কাপড় পড়ুন। নতুনভাবে চুল বাঁধুন। দেখবেন সবকিছু অনেক উচ্ছ্বল আর প্রাণবন্ত মনে হবে এবং এটি আপনার স্বপ্নের সহায়ক হবে। খাবার বা ক্রোড়পত্রও স্বপ্নে প্রভাব ফেলে। কলার মধ্যে আছে ভিটামিন বি সিক্স যেটি স্বপ্নে খুব বড় ধরণের প্রভাব ফেলে। ২০০২ সালের এক গবেষণায় পাওয়া যায় কলার বি সিক্স স্বপ্নকে করে তোলে স্মরণীয়।

আজকের পত্রিকা/মির/এমএইচএস