স্ত্রীর শারীরিক চাহিদা পূরণে অনেক পুরুষই একটা সময় উদাসীনতা দেখায়। ছবি: সংগৃহীত

সারাদিন কর্মব্যস্ত জীবন কাটাতে গিয়ে অনেকের শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়ার সুযোগ হয় না। পুরুষদের মধ্যে অনেকেরই নেই স্বাস্থ্য সচেতনতা বোধ, যদি স্বাস্থ্য জ্ঞান কারো থাকেও, তারা নিয়মিত তা চর্চা করেন না। যারা কর্মজীবি এবং সদ্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা অনেকেই শারীরিক সম্পর্ক সুন্দর ও অধিক মাধুর্য্যময় করার ব্যাপারে উদাসীন।

শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক। মনের যেমন একটা নির্দিষ্ট চাহিদা আছে, তেমন শরীরেরও আছে। তাই দুটোকেই গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। স্ত্রীর শারীরিক চাহিদা পূরণ করার ব্যাপারে আমাদের সমাজে খুব কম মানুষকেই বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। কেউ আছে সারাদিন চাকরিক্ষেত্রে সময় দেন, রাতে বাসায় গিয়ে সঙ্গীকে খুব বেশি সময় দিতে পারেন না। সহজ কথায় বলতে গেলে, অল্প সময় যৌনমিলন করেই অকেজো বা অক্ষম হয়ে পড়ে। অথচ সঙ্গীর যে আরও বেশি কামনা-বাসনা থাকতে পারে, তা নিয়ে আমরা অনেকেই ভাবি না।

অক্ষমতা নিয়ে আমাদের সমাজে কুসংস্কারের কমতি নেই। কেউ বেশি সময় সঙ্গম করতে পারেন না, বা কোনো পুরুষের শারীরিক দুর্বলতা আছে শুনলেই আমরা হাসাহাসি করি। লোকটাকে ব্যঙ্গ করি। অথচ, ঘেঁটে দেখলে জানা যাবে, আপনি নিজেও একই সমস্যায় ভুগছেন অথচ স্বীকার করতে নারাজ। আমরা পুরুষের এই দুর্বলতাকে একবিংশ শতাব্দীতে এসে ট্যাবু করে রেখেছি।

আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপন, দূষিত পরিবেশ, ভেজাল মিশ্রিত খাবার, পর্যাপ্ত কায়িক শ্রম, ব্যায়াম, মানসিক চাপ, ফিজিক্যাল ডিপরাইভেশন ইত্যাদি শারীরিক দুর্বলতা/অকাল বীর্যপাতের মূল কারন হিসেবে কাজ করে। আমাদের দেশে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ লোক নানা রকম যৌন সমস্যায় ভুগেন। অথচ সামান্য একটু সচেতনতা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা ইত্যাদি চর্চার মাধ্যমে সহজেই যৌন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা কিছু খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন যা সফল যৌনমিলনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। মানসিক হীনমন্যতা ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে দিয়ে নিয়মিত এসব খাদ্য গ্রহণ আপনার যৌন জীবনকে আরো সফল করবে।

তরমুজ 

তরমুজকে প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা বলা হয়ে থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো এসিড থাকে যা অকালে বীর্যপাত রোধ করে। পুংজননে অধিক রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে আপনার মিলনকাল বাড়িয়ে থাকে।

আপেল

আপেল খেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয় না এমন একটা প্রবাদ আছে। আপনি জেনে খুশি হবেন, আপেল আমাদের যৌন শক্তিকেও অনেকাংশে বর্ধিত করে। আপেলে বিদ্যমান কুয়ারসেটিন এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাবোনয়েড আমাদের প্রবল উত্তেজনার সময় ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধি করে।

দুধ

দুধ রতিশক্তি সৃষ্টি করে দেহের শুষ্কতা দূর করে এবং দ্রুত হজম হয়ে যায়, বীর্য সৃষ্টি করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিষ্ক শক্তিশালী করে। শারীরিক শক্তি বর্ধনে দুধের বিকল্প নেই বললেই চলে।

ডিম

ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের সকালের টিফিনে একটি করে ডিম রাখুন। এতে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

মধু

যৌন সমস্যায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে মধু। যৌন শক্তি বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করুন।

কলা

কলা শুধু পুষ্টি বাড়ায় না, যৌন ইচ্ছা তীব্র করতেও কাজে দেয়। এতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে যা যৌন মিলনের বাড়তি শক্তি যোগায়। কলায় রয়েছে একটি বিশেষ এনজাইম ব্রোমেলিয়ান, যা শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে পুরুষের যৌন দুর্বলতা রোধ করতে সহায়ক।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত