চিরতা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারি। ছবি: সংগৃহীত

চিরতা একটি ভেষজ উদ্ভিদ, যা বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে জন্মে। চিরতার ডাল শুকিয়ে পরিষ্কার করে ধুঁয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখা হয়। সেটাই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জ্বরের ক্ষেত্রে চিরতার পানি খুবই কার্যকরী। চিরতার রসের রয়েছে নানা ঔষধি গুণাগুণ। জেনে নেওয়া যাক সেইসব উপকারিতা সম্পর্কে-

চিরতার রসের উপকারিতা

শরীরকে ব্যকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে চিরতা খুবই কার্যকরী। এটা খুব তেঁতো হওয়ায়, খেলে শরীর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দ্বারা তুলনামূলক কম আক্রান্ত হয়ে থাকে। চিরতার পানি শরীরকে বিভিন্ন রোগ ব্যাধির আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও এটা খুবই উপকারি, কারণ এটা রক্তের সুগারের পরিমাণ কমায় এবং রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে থাকে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

জ্বরের রোগীদের জন্য চিরতা জাদুকরী উপায়ে কাজ করে। জ্বরের ফলে শরীরের শক্তি কমে যায়, আবার অনেকেই সবসময় জ্বর জ্বর অনুভব করে থাকেন, এসব দূর করতে চিরতা খুবই উপকারি। শুধু তাই নয়, চিরতা এলার্জির সমস্যা দূর করে। যদি আলার্জির সমস্যা থাকে, তবে চিরতা খেতে পারেন। এলার্জির ফলে চোখ ফুলে যাওয়া, শরীর ফুলে যাওয়াসহ ত্বকেও নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোজ সকালে চিরতা ভেজানো পানি খেলে এসব সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এছাড়া লিভারের সমস্যা, বদ হজম, অ্যাসিডিটি ইত্যাদি ক্ষেত্রে চিরতা খুবই উপাদেয়।

তারুণ্য ধরে রাখতে

চিরতার রস তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি খেলে অল্প বয়সে বার্ধক্য আসার কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না। কারণ চিরতা রক্তকে পরিষ্কার করে, রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, চিরতা ত্বকের যত্নেও খুব উপকারি। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন: চামড়ার ঘা, ক্ষত বা স্কিনের, যে কোনো ধরনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে চিরতা।

সতর্কতা

চিরতার রস খুব উপকারী এই ব্যপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে গর্ভবতী মহিলারা চিরতার রস খাবেন না। আলসারের সমস্যায় যারা ভুগেন তাদের কখনো চিরতার রস খাওয়া ঠিক না। কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়াটা স্বাস্থ্যকর নয়। তাই চিরতা কখনো অতিরিক্ত খেতে যাবেন না। বেশি পরিমাণে চিরতা খেলে গায়ে জ্বালা পোড়া করতে পারে, বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত