গরুর মাংসে বিদ্যমান প্রোটিন দেহের মাংসপেশিকে শক্তিশালী ও মজবুত করে। ছবি : সংগৃহীত

কোরবানি ঈদ মানেই চারিদিকে মাংসের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে গরু এবং খাসির মাংস ঘরে ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্না হয়। অতি মুখরোচক এই খাবার সারা বছর মানুষ বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া তেমন একটা না খেলেও ঈদে মোটামুটি প্রচুর পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়া হয়। গরুর মাংস স্বাদে অতুলনীয় এবং পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ। তবে স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে যেকোনো খাবারই সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হয়। আর সেই কারণে খাবারের পুষ্টিমূল্য তার সঠিক রান্নার কৌশল, সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যের জন্য এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

গরুর মাংস খাওয়ার ভালো দিক

গরুর মাংসে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা তুলনামূলকভাবে অনেক খাবারেই কম পাওয়া যায়। ওই সব পুষ্টি উপাদানের শারীরিক চাহিদাও থাকে। আবার অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানের মজুদ থাকায় কখনো কখনো শরীরের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই গরুর মাংস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ বজায় রাখা অনেক জরুরি। সঠিক প্রস্তুত প্রণালি ও পরিমাণে গরুর মাংস খেলে তা শারীরিক বেশ কিছু উপকারে আসে। গরুর এক টুকরা মাংস থেকে পাওয়া যায় একগুচ্ছ পুষ্টি উপাদান, যার মধ্যে অন্যতম হলো : প্রোটিন, জিংক, আয়রন, ফসফরাস ইত্যাদি।

প্রোটিন আমাদের মাংসপেশিকে শক্তিশালী ও মজবুত করতে সাহায্য করে। গরুর মাংস থেকে প্রথম শ্রেণির উন্নতমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। তিন আউন্স গরুর মাংস থেকে প্রায় ২১ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যদিকে জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। গরুর মাংসের জিংক শরীরে প্রায় ২৫ শতাংশ শোষিত হয়। তাই জিংকের অভাব দূরীকরণে গরুর মাংসের জুরি নেই। গরুর মাংসে প্রাপ্ত সেলেনিয়াম মানবশরীরে রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অনেক খাবারের তুলনায় গরুর মাংসে বেশি।

গরুর মাংস খাওয়ার খারাপ দিক

এতসব সুফলের মধ্যে গরুর মাংস খাওয়ার খারাপ দিকগুলো শুনলে অনেকেই আবার হতাশ হবেন। বিশেষ করে ঈদে যখন গরু মাংস খাওয়াটা একটা উৎসবের মতো ব্যাপার সে সময় গরুর মাংসের অপকারিতাসমূহ লিপিবদ্ধ করা বেশ শঙ্কা তৈরি করতে পারে। কেউই খাবার সময় তার অপকারিতা সম্পর্কে কোনো তথ্য মাথায় রাখতে পছন্দ করবেন না। কিন্তু বাস্তবতা যেহেতু আমাদের মানতেই হবে, তাই এটাও মেনে নেওয়া আবশ্যক যে গরুর মাংসের রয়েছে বেশ কিছু খারাপ দিক। তাই গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে সে বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন থাকা জরুরী।

গরুর মাংসে রয়েছে কোলেস্টেরল, সোডিয়াম ও ফ্যাট, যা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মতো বেশি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে গরুর মাংসের ঝোল বা স্টক থেকে প্রচুর সম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়, যা রক্তনালিতে জমে এথেরোসক্লেরসিস ঘটাতে পারে। যা থেকে পরবর্তীকালে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

গরুর মাংসের অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিতে বা বাড়াতে সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস ঘন ঘন খেলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা থেকে পরবর্তীকালে আরো অনেক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

এ ছাড়া গরুর মাংস প্রথম শ্রেণির প্রোটিনের ভালো উৎস। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে তা থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর