মাত্র চার মাস বয়স পেরোলেই বাচ্চাদের ঘুমের পরিমাণ কিছুটা কমতে থাকে। ছবি: সংগৃহীত

একজন মানুষ তার জীবনের তিন ভাগের মধ্যে প্রায় এক ভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। কারো বয়স যদি ৭৫ বছর হয়, তাহলে সে তার জীবনের প্রায় ২৫ বছরই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব, ল্যাপটপ, টিভিসহ বিভিন্ন উদ্ভাবন আমাদের শরীরকে ব্যস্ত রাখতে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। তাই অনেক মানুষের পর্যাপ্ত ঘুম হয়ে ওঠে না।

শরীর ও মনের শান্তির জন্যে পর্যাপ্ত ঘুমানো অত্যন্ত জরুরী। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুম দরকার এটা নিয়ে নানা মত রয়েছে। মানব শরীরকে সঠিকভাবে ফাংশন করতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত বিশ্রাম, ঘুম। একজন সুস্থ স্বাভাবিক ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিমিত ঘুমের পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, জগিং করেন, প্রার্থনা করেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা কম হয়, কাজের গতি বাড়ে এবং ফলাফল ভালো হয়। তাই সুস্থ থাকতে দৈনিক অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন। চলুন জেনে নিই, বয়স অনুযায়ী ঘুমের পরিমাণ।

সাধারণত ০ থেকে ৩ মাস

এই বয়স পর্যন্ত নবজাতকদের ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। যেহেতু ঘুমের সময় তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ হয়।

৪ থেকে ১১ মাস

মাত্র চার মাস বয়স পেরোলেই বাচ্চাদের ঘুমের পরিমাণ কিছুটা কমতে থাকে। তখন তারা জেগে খেলা করে। বা পরিজনদের চেনার চেষ্টা করে। তবে এই বয়সি বাচ্চাদের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।

১ থেকে ২ বছর

বয়সী বাচ্চাদের দিনে ঘুমনোর প্রবণতা কমে যায়। রাতেই মূলত ঘুমোয়। এদের ক্ষেত্রে দিনে ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুম না হলেই নয়।

৩ থেকে ৫ বছর

এই বয়সী বাচ্চারা স্কুলে ভর্তি হলে ঘুমের সময় কম পায়। তার ওপর সকালে ওঠার ঝামেলা থাকে। এসবের পরেও ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।

৬ থেকে ১৩ বছর

এই বয়সে পড়াশোনার চাপ বাড়তে থাকে। সঙ্গে যোগ হয় নাচ, গান বা আঁকা শেখা। ফলে চাপও বাড়ে। কিন্তু বাচ্চাদের ঘুমের ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলে চলবে না। এই বয়সে ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। প্রতিদিন ঠিক সময় ঘুমোতে যাওয়াটাও দরকার।

১৪ থেকে ১৭ বছর

এ সময় পড়াশোনার চাপ আরও বাড়ে। কিশোর–কিশোরীদের অনেকেই রাত জেগে পড়াশোনা করে। এর ফলে নানারকম শারীরিক-মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়। কিন্তু যত চাপই থাকুক, ৮ ঘণ্টা অন্তত ঘুমাতেই হবে।

১৮ থেকে ২৫ বছর

স্কুল ছেড়ে কলেজে ভর্তি। তার পর কর্মজীবন। জীবনে এতগুলো পরিবর্তন। তাই বিশ্রামটাও বেশি জরুরি। অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন।

২৬ থেকে ৬৪ বছর

এই বয়সে নিউরনের একটি অংশ (‌ভেন্ট্রোল্যাটেরাল প্রিঅপটিক নিউক্লিয়াস)‌ নষ্ট হতে থাকে। ফলে ঘুম কমে যায়। দিনে তবু ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম কিন্তু জরুরি।

৬৫ বছরের অধিক

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম আরও কমে যায়। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমাতেই হয়। তবে অনেকের ৫ ঘণ্টারও কম ঘুম হয়।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত