‘উইকিলিকস’ এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান এ্যাসেঞ্জকে নিয়ে বানানো বিখ্যাত সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

‘We open Govt’ স্লোগান নিয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর মুখোশ খুলতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘উইকিলিকস’। যুক্তরাষ্ট্র পারমানবিক বোমার চেয়েও অ্যাসাঞ্জকে ভয় পায় বেশি।

কারণ অ্যাসাঞ্জ খুলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডাসহ স্নায়ুযুদ্ধ নামের স্বার্থপরতার এক নোংরা খেলার ডকুমেন্টস ও দলিল।

যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ১.২ মিলিয়নেরও বেশি গোপন নথির ডাটাবেজ নিয়ে তৈরি হয় উইকিলিকস। যাতে ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশগুলোকে শাসন করা এবং তেল নিয়ে নিজেদের দেশ সমৃদ্ধ করার এক নীল নকশা প্রকাশ করে অ্যাসাঞ্জ।

এরপর থেকেই শুরু হয় অ্যাসাঞ্জকে হত্যার হুমকি, গ্রেফতার আর তার অবরুদ্ধ জীবন। এই সাহসী মানুষটিকে নিয়ে কয়েকজন সাহসী পরিচালক তৈরি করেছেন বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্র আর তথ্যচিত্রগুলোতে দেখানো হয়েছে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র কীভাবে মারছে ছোট ছোট বাফার রাষ্ট্রগুলোকে।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এর জীবনীমূলক শ্বাসরুদ্ধ করা কিছু উত্তেজনাপূর্ণ চলচ্চিত্র নিয়ে আজকের পত্রিকার বিশেষ এ আয়োজন। ‘দ্য ওয়ার ইউ ডোন্ট সি’ চলচ্চিত্রে আমরা সাধারণ মানুষ যে যুদ্ধ দেখি না, যে যুদ্ধ দেখেছেন অস্ট্রিলিয় সাংবাদিক অ্যাসাঞ্জ, সেই যুদ্ধকে ২০১০ সালে সিনেমায় তুলে এনেছেন নির্মাতা অ্যালান লোয়ারি এবং জন পাইগার। যে ভুল আমরা বুঝতে পারি না, মানুষের দুর্দশা, তাদের অধিকার আদায়ের দ্বন্দ্বগুলো দেখতে পারি না সেগুলো দেখতে পারে একজন সাংবাদিক। সিরিয়া ও ইরাকের যুদ্ধ একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি আপনি কীভাবে দেখি আর একজন সাংবাদিক কীভাবে দেখেন। এই দুইয়ের পার্থক্য বড় পর্দায় দেখিয়েছেন সিনেমার পরিচালক। সিনেমাটি দেখতে নিচের লিঙ্ক চাপুন…

মেডিস্টেন
সিনেমাটি পরিচালনা করেন জোহানেস ওয়াহলস্ট্রম। ২০১৩ সালে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। পরিচালক সিনেমাটিতে দেখিয়েছেন এশিয়ার মধ্যভাগ তাজিকিস্তানের মতো শান্ত, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পাহাড়ী ভূখণ্ডগুলোতে থেকেও শান্তির জন্য কাজ করে যাওয়া যায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। পরিচালক দেখিয়েছেন শান্তির পায়রা দিয়ে বেনামী একটি চিরকুট কীভাবে সবকিছু পাল্টে দিতে পারে।দেখতে পারেন সিনেমাটি এই লিঙ্কে…

উই স্টিল সিক্রেট
অ্যালেক্স গিবিনি নির্মাণ করেছেন এই সিনেমা। প্রকাশ পায় ২০১৩ সালে। তিনি দেখিয়েছেন সুশীল সমাজ হিসেবে আমরা যতই তথ্য অধিকার নিয়ে মাতামাতি করি না কেন। আমরা আসলেই কি প্রকৃত তথ্য জানতে পারছি? সিনেমাটি বাফটা বেস্ট ডকুমেন্টারি অ্যাওয়ার্ড, রাইটার গিল্ড অব আমেরিকা অ্যাওয়ার্ড, পল সেলভিন অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়।

রিক্স
ছয় বছর ধরে পরিচালক লৌরা পোয়েটার্স সিনেমাটি বানিয়েছেন। সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সাহসীকতা। সিনেমার পোস্টারে লেখা আছে, ‘আপনি আপনার জীবনকে কতটুকু ঝুঁকিতে ফেলতে পারবেন।’ জুলিয়ান বাস্তবে ঠিক তাই করেছেন। এতোটা ঝুঁকিতে কেউ নিজেকে ফেলতে পারবে না, যেটা তিনি করেছেন। নথিগুলো প্রকাশের কারণ, উদ্দেশ্য ও পেশাগত আদর্শিক দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে সিনেমাটিতে। নথিগুলো প্রকাশের পর পাঁচ বছর ধরে একটি ছোট্ট বিল্ডিংয়ে বন্ধী জীবন কাটানো কাটিয়ে হতাশ হয়ে পড়া। বিভিন্ন ব্যক্তিদের থেকে হুমকি গোপনীয়তার বিরুদ্ধে তার আন্দোলনকে কিছুটা ম্লান করে দেওয়া। সেখান থেকে নিজেকে আবার সংগঠিত করার গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘রিক্স’ সিনেমাটি। সিনেমাটি প্রকাশ পায় ২০১৬ সালে।

আজকের পত্রিকা/এসএ