জীবনের পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব না করে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাবার চেষ্টা করুন। ছবি: সংগৃহীত

জীবন হলো ট্রেনের মতো, আমরা হলাম যাত্রী। জীবন মানেই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বৈচিত্র্যময় মিশেল। আমরা সবাই প্রাপ্তি ভুলে গিয়ে অপ্রাপ্তির খাতা নিয়ে বসে থাকি। এর ফলে অধিকাংশ সময়ই আমাদের মধ্যে হতাশা কাজ করে।

হতাশা কী?
আশার উল্টো পিঠই হলো হতাশা। যে ব্যক্তি জীবন থেকে আর কোনো আশা খুজে পায় না, সে ব্যক্তি হতাশায় ভুগে। হতাশার লক্ষণ হলো মন ভালো না থাকা, কাজে আগ্রহ না থাকা, ক্ষুধা ও ঘুম কমে যাওয়া, ওজনের পরিবর্তন হওয়া। খুব বেশি হতাশ হয়ে পড়লে আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা যায়।

হতাশা আপনার জীবনে আগ্রাসী আক্রমণ চালাতে পারে। তবে যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সে-ই পারবে হতাশাকে জয় করে সাফল্যের উচ্চ শিখর ছুঁতে। এ জন্য কিছু বিষয় মেনে চলতে পারেন…

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা
সবকিছু থেকেই সাফল্য আশা করা যায় না। ব্যর্থ হওয়া স্বাভাবিক। তবে ব্যর্থ হলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা অস্বাভাবিক। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করুন, সেখান থেকে নিজেকে উত্তরণ করুন।

নিজের মূল্য
আশেপাশে তাকান, নিশ্চয় আপনার একটি পরিবার আছে, আছে ভালোবাসার মানুষও। তারা অবশ্যই আপনাকে ভালোবাসে। আপনাকে ভালোবাসার কারণ- আপনি তাদের কাছে মূল্যবান। যত যাই হোক না কেন, তারা আপনাকে ভালোবাসবে। এই অর্জনটা কি কিছুই না? একবার ভেবে দেখুন।

বদ অভ্যাস
অহেতুক রাগারাগি করা, অন্যের গীবত গাওয়া, মিথ্যা বলা- কত শত বদ অভ্যাসই না আছে আমাদের। সিগারেট, মদ ছাড়াও রয়েছে নানা রকম নেশা জাতীয় দ্রব্যের অভ্যাস। নিজের বদ অভ্যাসগুলোকে ত্যাগ করার চেষ্টা করুন। নিজের পরিবার বা আশেপাশে কোনো কিছু পরিবর্তন যোগ্য হলে সেটা করার চেষ্টা করুন।

তুলনা
কখনোই নিজের সঙ্গে অন্যের তুলনা করতে যাবেন না। আপনি যেই অবস্থাতেই আছেন, সেই অবস্থায় অন্যজন নাও থাকতে পারে। সবাই সবার জায়গায় ভালো আছে, সেই সাথে আপনিও। অন্যের সফলতা দেখে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না, বরং তারটা দেখে নিজেকে অনুপ্রানিত করবেন।

ব্যর্থতার সাগরে ডুবে না গিয়ে আশাবাদী হতে হবে। নিজে নিজে চেষ্টা করে বা অন্যের সাহায্য নিয়ে এই হতাশা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। সব সময় জীবনের পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব না করে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাবার চেষ্টা করুন।

আজকের পত্রিকা/সিফাত