আসাদুজ্জামান স্বপ্ন
সিনিয়র রিপোর্টার

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী  ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত

নাম পরিবর্তন করলেও জামায়াতের আদর্শ অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী  ওবায়দুল কাদের। ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার  ধানমন্ডিতে দলটির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত এবং বিএনপি একে অন্যের দোসর উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শোচনীয় ব্যর্থতার পর হেরে যাওয়ার ভয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় ব্যর্থতার পর উপজেলা নির্বাচনে কোনো আশা তারা দেখতে পাচ্ছে না। এই ভয়েই তারা উপজেলা নির্বাচনে আসছে না।

নাম পরিবর্তন করলেও জামায়াতের আদর্শ অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার  ধানমণ্ডিতে দলটির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের নাম পরিবর্তন তাদের কোন কৌশল কি-না তা পরিষ্কার হতে সময় লাগবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন,  বলেন, ‘জামায়তের নাম পরিবর্তন, নতুন বোতলে পুরান মদের মত হলে কোন লাভ হবে না। কারণ তাদের নাম পরিবর্তন হলেও আদর্শ অটুট থাকবে।’ তিনি বলেন, তাদের (জামায়াত) নাম পরিবর্তন হলেও নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন না হলে কোন লাভ হবে না। আর এটা তাদের কোন কৌশল কি-না, তা পরিষ্কার হতে আরো সময় লাগবে।

জামায়াত এবং বিএনপি একে অন্যের দোসর উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শোচনীয় ব্যর্থতার পর হেরে যাওয়ার ভয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় ব্যর্থতার পর উপজেলা নির্বাচনে কোনো আশা তারা দেখতে পাচ্ছে না। এই ভয়েই তারা উপজেলা নির্বাচনে আসছে না।

ওবায়দুল কাদের জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে বলেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলছে। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতেই দিবে। জামায়াতের বিষয়ে নীতিগতভাবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। এটা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের স্ট্যান্ট নির্ধারিত।

উপজেলা পরিষদ নির্বাজনে বিএনপির অংশ না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি-জামায়াত যে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে তাতে পরাজয়ের ভয়েই তারা এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যাতে অংশগ্রহনমূলক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) কে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হলেও ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন উম্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তবে জেলা ও উপজেলা পর্য়ায়ে দলীয় নেতারা এ দু’টি পদে মনোনয়ন দিতে পারবে। এটা তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। কাদের বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারী মধ্যরাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

তিনি বলেন, এদিন সকাল সাতটায় নিউমার্কেটের দক্ষিণ পাশে দলীয় নেতা-কর্মীরা সমবেত হয়ে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা প্রভাত ফেরীতে অংশ গ্রহন করবো।

আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারী দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে কাদের বলেন, এ দু’দিনে ৩য় ও ৪র্থ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত করা হবে। ৫ম ধাপের যে ৭ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে উপজেলার মনোনয়ন ঈদ-উল-ফিতরের পর চুড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন দেখ ভাল করার জন্য দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা এ নির্বাচন মনিটর করছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলেই তাঁর নির্দেশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এলে তা সত্য বলে প্রমানিত হলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হবে।

আজকের পত্রিকা/আ.স্বপ্ন/জেবি