জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ভোটারদেরকে পিঠা খাইয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, আগামীকাল ২৭ জানুয়ারি সোমবার   শিক্ষক সমিতি নির্বাচন অংশ নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি সংগঠন। একটি সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ প্যানেল এবং আরেকটি ভিসিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ প্যানেল।

উপাচার্য বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের প্রার্থীদের জেতাতে উঠে পড়ে লেগেছেন। নির্বাচনে ভোটারদের আনুকূল্য পেতে জনে জনে ভোট চাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে উপাচার্য তার বাসায় প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের নিয়ে পিঠা খাওয়ার আয়োজন করেছেন।

এতে উপাচার্য নির্বাচনকে তার অনুগত সংগঠনের পক্ষে প্রভাবিত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, “উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ না করে লেকচারার ও এ্যাসিসটেন্ট প্রফেসরদের নিজ বাসায় ডেকে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছেন। এতে পদোন্নতির আশায় শিক্ষকরা প্রভাবিত হতে পারে। এটি উপাচার্যের নৈতিক আচরণের সাথে সাংঘর্ষিক।”

এদিকে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এ এ মামুন। শিক্ষা ও গবেষণায় তার সুনাম থাকলেও শিক্ষক রাজনীতিতে তিনি বিতর্কিত।

২০১৮ সালে শিক্ষকদের অবরোধ চলাকালীন বিশমাইল পরিবহন ডিপোর সামনে শিক্ষক মারধরে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে হামলার ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষ ইন্ধন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।

‘দল পাল্টিয়ে’ প্রথম বার শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আলমগীর কবির। প্রথম বারেই সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছেন তিনি।

আলমগীর কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচন করে সিনেটর পদে জয়লাভ করেন।

‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’- এর সমন্বিতত কমিটির দায়িত্বে থেকে বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ আন্দোলনও করেছেন তিনি। কিন্তু এপ্রিল মাসে তিনি উপাচার্যের পক্ষে যোগদান করে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’- এর মুখপাত্রের দায়িত্ব পান।

সম্প্রতি তাকে ছাত্র- শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া উপাচার্যের বাসভবনের সামনে হামলার ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষ ইন্ধন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।

-সোহেল