জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) “অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প” এর নামে লুটপাট, অপরিকল্পত উন্নয়ন ও প্রকৃতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ।

শনিবার (২৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ বলেন, ‘একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করার জন্য কিছু প্রক্রিয়া যেমন- স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা তথা পাবলিক হিয়ারিং, সিন্ডিকেট ও সিনেটে অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ এজেন্ডা, একজন পরিকল্পনাবিদের নেতৃত্বাধীন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন টিম ইত্যাদি আবশ্যক। যার কিছুই এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে অনুসরণ করা হয়নি। শুরুতেই ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এসময় ছাত্রলীগ কর্তৃক টেন্ডারের দরপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্যই টেন্ডারের দরপত্র ছিনতাই করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, উপাচার্য নিজে প্রকল্পের টাকা থেকে দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের হাতে তুলে দিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হওয়া অর্থ কেলেঙ্কারির খবর। যার সঙ্গে যুক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বয়ং উপাচার্য এবং তার পরিবারের।

এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ আরো বলেন, রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন এলাকায় একটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লেকের জমি ও জেনারেটর মাঠের মত উপযুক্ত জায়গা থাকা ¯সত্ত্বেও কেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলকে ঘিরে গাদাগাদি ও প্রকৃতি ধ্বংস করে তিনটি হল নির্মাণ করা হচ্ছে ? বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন সর্বোপরি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আপত্তি ও সর্বাত্মক প্রতিবাদ ¯সত্ত্বেও প্রশাসন অটল রয়েছে সিদ্ধান্তে। উপাচার্য পর্যালোচনা কমিটির কোন প্রকাশ্য রিপোর্টের অপেক্ষা না করেই প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে কেটে ফেলা হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংলগ্ন এলাকার অনেক গাছ।’

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের তিনটা হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু ও মেগাপ্রজেক্টের টাকার দূর্নীতির ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে ও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং কাজ স্থগিত রেখে সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাস করে কাজ শুরু করতে হবে।- এই তিন দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ।

সেইসাথে রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় বিক্ষোভ মিছিল। সোমবার দিনব্যাপী গণসংযোগ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং সন্ধ্যায় ট্রান্সপোর্ট চত্বরে পাবলিক টক। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় মশাল মিছিল এই তিন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ “অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প” শিরোনামে সরকারের কাছ থেকে ৩ বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪৪৫ কোটি টাকার একটি বাজেট বরাদ্দ পায়। এর প্রথম কিস্তি অংশ হিসেবে মেয়েদের ৩টি ও ছেলেদের ৩টি হল নির্মাণের জন্য তিনশো কোটি টাকা বিগত অর্থবছরে ছাড় করানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বাজেটে বরাদ্দের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক তথা স্বৈরাচারী আচরণ ও কর্মপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে।