সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। ছবি : দূতাবাস

বাংলাদেশের আইটি খাতে জাপানী ব্যবসায়ীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। ৮ মে বুধবার সকালে এশিয়ার বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি মেলা ‘জাপান আইটি উইক’ পরিদর্শন শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

সকালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং দেশ থেকে আগত আইটি উদ্যোক্তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি তাঁদের যেকোন প্রয়োজনে দূতাবাসের সর্বাত্মক সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

বাংলাদেশের ২৪ টি আইটি কোম্পানি ৮ মে বুধবার থেকে শুরু হওয়া এশিয়ার বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি মেলা ‘জাপান আইটি উইক’ এ অংশগ্রহণ করছে। মেলাটি চলবে আগামী ১০ মে শুক্রবার পর্যন্ত।

পরে মেলার ভেন্যু টোকিও বিগ সাইটে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাপানী আইটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

স্টল পরিদর্শন করছেন রাষ্ট্রদূত। ছবি : দূতাবাস

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।  রাষ্ট্রদূত বলেন তথ্যপ্রযুক্তি খাত বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে তরান্বিত করতে তথা সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর এজন্য বাংলাদেশ সরকার এই খাতের উন্নয়নে নানাবিধ প্রণোদনা প্রদান করছে। তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান ও ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যা মোট জিডিপির ৫% অবদান রাখবে।  তিনি আশা প্রকাশ করেন সার্বিক এই উদ্যোগ দু’দেশের আইটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যবসার নবদিগন্ত উম্মোচিত করবে। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আইটি খাতে জাপানী ব্যবসায়ীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সেমিনারে আরোও উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সচিব হোসনে আরা বেগম,বেসিস এর সাবেক সভাপতি মাহাবুব জামান এবং বাংলাদেশ-জাপান আইটি ইনকর্পোরেশনের ইয়াশুহিরো আকাশি।

সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিও; আইসিটি বিভাগ, ঢাকা; বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস)। সেমিনারে সহযোগিতা করে জাইকা, জেট্রো, ইউনিডো, জাপানের ইনফরমেশন -টেকনোলজি প্রমোশন এজেন্সি, কম্পিউটার সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন অফ জাপানসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন।

বিটুবি সভায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীগণ। ছবি : দূতাবাস

এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিওর উদ্যোগে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপানী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা প্রসার ও দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ৭ মে টোকিওর ফুজিতসু রিসার্চ ইন্সটিটিউটে দ্বিতীয় বারের মতো  অনুষ্ঠিত হয়েছে জাপান বাংলাদেশ আইটি বিটুবি সভা। দুই দেশের আইটি ব্যবসায়িদের প্রথম সভাটি হয়েছিলো ২০১৫ সালে। এবারের সভায় বাংলাদেশি ২০টি ও জাপানিজ ২৪টি কোম্পানি ব্যবসা স্থাপন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে সাম্প্রতিক কালে তথ্য প্রযুক্তি খাতে জাপান-বাংলাদেশ বিনিয়োগ এবং জাপানে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজকের পত্রিকা/দূতাবাস/জাপান/আ.স্ব/