নিয়মে বাধা জীবন, সুষম খাদ্য ও পানীয় গ্রহনই জাপানি মেয়েদের দীর্ঘায়ু প্রদান করেছে। ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের একটি অতি স্বাভাবিক ইচ্ছে হলো সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা। আর সুস্থতার দিক থেকে জাপানের মানুষরা সব থেকে এগিয়ে এবং এক্ষেত্রে জাপানের পুরুষদের থেকেও এগিয়ে জাপানের মহিলারা। বিগত ২৫ বছর ধরে তারা বিশ্বের সব থেকে দীর্ঘায়ু মানুষ হওয়ার রেকর্ড করে আসছেন। এই সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের পেছনে যেসব কারণ কাজ করে তা জানলে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন।

নিয়মে বাধা জীবন, সুষম খাদ্য ও পানীয় গ্রহনই তাদের এই দীর্ঘায়ু প্রদান করেছে। নাওমি মোরিইয়ামার বই থেকে কেয়ার টু ওয়েবসাইটে জাপানের মেয়েদের জীবনের  দীর্ঘায়ু, সুস্থ ও স্বাভাবিক গড়নের শরীরের রহস্য তুলে ধরা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেসব পরামর্শ সম্পর্কে–

১) জাপানের মেয়েরা প্রতিদিন প্রায় একই ধরনের খাবার খায়। তাদের খাবারের তালিকায় ভাত, মাছ, সামুদ্রিক শৈবাল, সবজি, সয়া, ফল ও গ্রিন-টি থাকে। এগুলোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে, যা তাদের শরীরকে সুস্থ রাখে এবং শরীর মেদমুক্ত রাখে।

জাপানি খাবার সুশি। ছবি : সংগৃহীত

২) নিয়মিত বাড়িতেই রান্না করা খাবার খেতে পছন্দ করে জাপানের মেয়েরা। শুনলে অবাক হবেন, জাপানের মানুষ বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মাছ খেয়ে থাকে। নিয়মিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ মাছ খাওয়ার কারণে তারা বেশিদিন বাঁচে। আর বাঁধাকপি, ব্রকোলি, ফুলকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউট খাওয়ার কারণে তারা শারীরিকভাবে সুস্থও থাকে।

জাপানের ঐতিহ্যবাহী সকালের নাস্তা। ছবি : সংগৃহীত

৩) জাপানের মেয়েরা মৌসুমি ও সতেজ খাবার বেশি খায়। সেখানকার সুপারমার্কেটগুলোতে কোনো বাসি খাবার পাওয়া যায় না। প্রতিদিন প্যাকেট হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই জাপানের মেয়েরা প্রস্তুতকৃত খাবার, মাছ, মাংস ও সবজি কেনে। এই কারণে তারা পুষ্টিগুণ বজায় থাকা অবস্থায় খাবার খেতে পারে।

শাকসবজি দিয়ে বানানো রাইস বল। ছবি : সংগৃহীত

৪) জাপানের মেয়েরা অনেক ধরনের খাবার খায় তবে খুব অল্প পরিমাণে। তারা প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ও আস্তে আস্তে খায়। তারা কখনোই প্লেট ভরে খাবার নেয় না, কখনোই কোনো একটা খাবার বেশি পরিমাণে খায় না। প্রতিটি খাবার আলাদা আলাদা বাটিতে পরিবেশন করে অল্প পরিমাণে খায়।

৫) জাপানের মেয়েরা খুবই অল্প মসলা দিয়ে খাবার রান্না করে। অল্প আঁচে এসব খাবার রান্না করা হয়। যাতে এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। যেসব তেল হৃৎপিণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর, সেই তেল দিয়ে তারা খাবার রান্না করে।

৬) মজার বিষয় হলো আমরা মেদ কমানোর জন্য ভাতের পরিবর্তে রুটি খাই। আর জাপানের মেয়েরা রুটির পরিবর্তে ভাত খায়। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিমা বিশ্বে গমের রুটিই মোটা হওয়ার প্রধান কারণ। এই কারণে জাপানের মেয়েরা প্রতিদিন এক থেকে দুবার আধা কাপ ব্রাউন রাইস খেয়ে থাকে।

জাপানি ব্রাউন রাইস। ছবি : সংগৃহীত

৭) সকালের নাশতায় জাপানের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি খাবার খেয়ে থাকে। সেদ্ধ ভাত, টফু ও পেঁয়াজের কলি দিয়ে স্যুপ, ছোট এক টুকরা শুকনো শৈবাল, ডিমের ওমলেট অথবা এক টুকরা মাছ ও গ্রিন টি সকালের নাশতা হিসেবে তারা খেয়ে থাকে।

৮) জাপানের মেয়েরা বাজারের তৈরি কোনো ডেজার্ট সচরাচর খায় না। চকলেট, কেক, বিস্কুট, আইসক্রিম খুবই অল্প পরিমাণে খায়। কারণ তারা এগুলোর ক্ষতিকর দিক জানে এবং মানারও চেষ্টা করে।

৯) জাপানের মেয়েরা খাবার খেতে খুব পছন্দ করে। যেখানে পশ্চিমা দেশগুলোর মানুষ তাদের স্থুলতা নিয়ে চিন্তিত থাকে এবং সারাক্ষণ ডায়েটের মধ্যে থাকে, সেখানে জাপানের মেয়েরা কোনো রকম ডায়েট ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকে। তবে অবশ্যই পরিমাণে কম।

জাপানের মেয়েরা জিমে না গিয়ে সাইক্লিং এর মতো সাধারণ শরীরচর্চাগুলো নিয়মিত করে। ছবি : সংগৃহীত

১০) জাপানের মেয়েদের মোটা না হওয়ার এবং বেশিদিন বাঁচার আরেকটি কারণ হলো তারা নিয়মিত ব্যায়াম করে। ব্যায়মের জন্য তারা অবশ্য কোনো জিমে যায় না। নিয়মিত সাইকেল চালানো, সময় পেলেই হাঁটা এবং মাঝে মাঝে পাহাড়ে চড়ার মতো কাজগুলো তারা ইচ্ছা করেই করে থাকে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/