মশা। ছবি-সংগৃহীত

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেলেও ঠিক কতজন আক্রান্ত হয়েছেন এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে জানা গেল চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আগামী মাসে বা ভরা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য বিশ্লেষণ করে আক্রান্তের এই অনুমিত সংখ্যা পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন সাত হাজার ১৭৯ জন। যার মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, হবিগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. শাহাদত হোসেন (৫৩) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত রোববার রাত ১২টায় মারা যান। তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েই তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকারি দপ্তর বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সব রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে নেই। চিকিৎসা নিতে আসা মাত্র ২ শতাংশ রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে পড়ে। ৯৮ শতাংশের কোনো তথ্য থাকে না। আবার আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই চিকিৎসা নেয় না। এই অনুমিত হিসাব তৈরিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জানান, এ ধরনের একটি অনুমিত সংখ্যা খুবই জরুরি। এতে সমস্যা অনুধাবনে সুবিধা হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত রোগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তাদের সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), আইসিডিডিআরবি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুজন বিশেষজ্ঞ গত মার্চে ডেঙ্গুতে অনুমিত আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের খসড়া প্রতিবেদনের ওপর সরকার মতামত দিচ্ছে। খুব শিগগির এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত হবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবিষ্যতেও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের অনুমিত সংখ্যা বের করা যাবে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস