মাত্র কয়েক ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে হবিগঞ্জ শহরের অধিকাংশ এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি   সড়কে কাদা জমে যায়। এছাড়া শহরের নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী।

জলমগ্ন রাস্তায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন এক ব্যক্তি। ছবি : সংগৃহীত

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখো যায়, শায়েস্তানগর, ইনাতাবাদ, চৌধুরীবাজার, সার্কিট হাউজ রোড, নোয়াহাটি, পুলিশ সুপারের বাস ভবন, বগলবাজার, উত্তর শ্যামলী, নোয়াবাদ, মোহনপুর, শ্যামলী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বাস ভবন, পুরাতন হাসপাতাল সড়ক, কালিগাছ তলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

ফলে মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান অনেকে।

পৌরবাসীর অভিযোগ, পানিনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বছরের পর বছর পৌরবাসী জলাবদ্ধতার সাথে যুদ্ধ করে আসলেও সমস্যা সমাধানে উদাসিন পৌর কর্তৃপক্ষ।

শায়েস্তানগর এলাকার পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ি নোমান মিয়া জানান- শায়েস্তানগর এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে আমরা ব্যবসায়িসহ এলাকাবসীকে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়তে হয়। অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ এই দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

তিনি জানান, ঈদে প্রতিদিন বিক্রি হত ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে বিক্রি নেমে এসেছে ২ থেকে তিন হাজারে। অনেক ব্যবসায়ী ২ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারেন না।

জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক এম এ আর শায়েল  বলেন, তিনদিন হল ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। অথচ পানিবন্দী। জরুরি কাজ ছাড়া বের হতে পারছি না। কি ভাবে ঈদের নামাজে যাব, আতংকে রয়েছি। তিনি বলেন, শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য অনেক টাকা খরচ করে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জলাবদ্ধতার হাত থেকে আমরা রক্ষা পাচ্ছি না।’ কারণ এগুলু পরিস্কার করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ফেসবুকের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন কিছুক্ষন আগে লাইভে আসেন। তিনি বলেন,

পানি উন্নয়ন বোর্ড নিজেই পানির নিচে- আমরা যাব কই! স্থানীয়দের অভিযোগ নদী দখল করায় এ অবস্তা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে হকার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে না পেরে বড়শি দিয়ে সড়কে মাছ ধরছেন। তারা বলেন, এ বছর আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র দীলিপ দাসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

আজকের পত্রিকা/শায়েল/এমএইচএস