জরাজীর্ন ভবনে চলছে কুমিল্লা রাইফেল ক্লাবের কার্যক্রম

কুমিল্লা রাইফেল ক্লাবা। যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। উচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা কুমিল্লা রাইফেল ক্লাবের ক্যাম্পাসটি দেখে যে কেউ মনে করতে পারেন একটি পরিত্যক্ত স্থাপনা।

ক্লাব ক্যাম্পাসে প্রবেশের টিন গেটটির উপর লাগানো সাইনবোর্ডটির কারণেই একমাত্র চেনা সম্ভব।

কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাথে লাগোয়া এই ক্লাব ক্যাম্পাসটির অবস্থা এতটাই করুন যে, এই কলেজের শিক্ষার্থীরাই অনেকেই জানেন না এই দেয়ালের পেছনের কার্যক্রম।

দু’এক জন শিক্ষক জানালেন, অনেক দিন পর বিশেষ বিশেষ দিনে খোলা হয় রাইফেল ক্লাবের গেট।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটের কুমিল্লা জেলা রাইফেল ক্লাবের পাতা ঘুরে দেখা যায়, এই ক্লাবটির কাজ হলো- অস্ত্র আইন মেনে চলে যথা সম্ভব দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করে নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে ক্লাবের সদস্যগণ ও অন্যান্য শুটারগণকে উৎসাহিত করা।

এছাড়া গেট অস্ত্র দ্বারা লক্ষ্য ভেদ নৈপুন্য অর্জন সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে শ্যুটিং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করা। অথচ কুমিল্লা রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইসলাম জানালেন, বিগত বছরগুলোতে শ্যুটিং গেমসের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করার উদাহরণ রয়েছে এই ক্লাবের।

তবে বহুমুখী সমস্যার কারণে এই প্রাপ্তি প্রায় অচল হয়ে আছে। যেহেতু ক্লাবের ভবন ও নিজস্ব মাঠটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে সে কারনে আপাতত শুটিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তারপরও আমরা জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা ও বাংলাদেশ শ্যুটিং এসোসিয়েশনের কাছে এই ক্লাবটির উন্নয়ন বরাদ্দ চেয়েছি।

সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও রাইফেল ক্লাবের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছেন। এই ক্লাবের শুরু থেকেই নিজস্ব ৫০ মিটার, ২৫ মিটার, ১০ মিটার শ্যুাটিং রেঞ্জ রয়েছে।

এছাড়া নিয়মিত শ্যুটার দ্বারা সপ্তাহে দুই দিন প্রশিক্ষণ পরিচালনার ও কথা। বিভিন্ন স্কুল কলেজ থেকে আগ্রহী শ্যুটার সংগ্রহ করার ও কথা। তবে ভবন সংকটের কারণে এবং পুরো ক্যাম্পাস আধুনিকায়নের অভাবে এসব বন্ধ হয়ে আছে।

তবে ক্লাব সদস্যরা আশা করছেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এই ক্লাবের জন্য নতুন ভবন ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জামে বরাদ্দ করলে কুমিল্লা থেকে আন্তর্জাতিক মানের শ্যুটার বের করা সম্ভব।

কুমিল্লা রাইফেল ক্লাবের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৪৮ জন। পদাধিকার বলে এই ক্লাবের সভাপতি জেলা প্রশাসক ও সহ সভাপতি পুলিশ সুপার।

শাকিল মোল্লা/কুমিল্লা