ডিএমপি ও এপিবিএন এর লোগো

ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে গুলশান থানার একজন এএসআইসহ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১ এর ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- তারা হলো গুলশান থানার এএসআই মাসুদ আহমেদ মিয়াজি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের নায়েক জাহাঙ্গীর আলম (২৭), কনস্টেবল প্রশান্ত মন্ডল (২৩), কনস্টেবল রনি মোল্লা (২১) ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম (২৩)।

উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ৫ জনের মধ্যে কনস্টেবল প্রশান্ত মন্ডল, এএসআই মাসুদ আহমেদ মিয়াজী ও নায়েক জাহাঙ্গীর আলমকে ৩ দিনের এবং বাকি দুজন রনি মোল্লা ও শরিফুল ইসলামকে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছেন উত্তরা পূর্ব থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিয়ারা। তিনি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে অভিযুক্ত ৫ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার বাদী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১ এর এসআই মো.জাফর বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার এএসআই মাসুদ আহমেদ মিয়াজিসহ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১ এর ৪ জন কনস্টেবল গুলশান ১-এর গুদারা ঘাট চেক পোস্টে দায়িত্বরত ছিল। ওইদিন তারা একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করেন। এ সময় তাকে তল্লাশি করে ৫২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। কিন্তু তারা জব্দকৃত ওই মাদক সংশ্লিষ্ট থানায় জমা না দিয়ে নিজেরা নিয়ে যান এবং মোটরসাইকেল আরোহীকে ছেড়ে দেন।

তিনি আরো বলেন, রবিবার উত্তরায় এপিবিএন এর ব্যারাকের বাথরুমে প্রশান্তসহ আরেক জন কনস্টেবল ইয়াবা বিক্রির জন্য প্যাকেট করছিলো। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরে থানায় ফোন দেই। পুলিশ এসে তাদের ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। পরে তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বাকিদের গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ১ নং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি দল জানতে পারে, ১ নং ব্যারাক ভবনের চতুর্থ তলার বাথরুমে পুলিশের কয়েকজন সদস্য ইয়াবা ভাগ-বাঁটোয়ারা করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রথমে প্রশান্ত, রনি ও শরীফুলকে আটক করা হয়। শরীর তল্লাশি করে প্রশান্তের পকেট থেকে ১৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার কাছে আরও ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার কক্ষ থেকে আরও ৩৯৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শরীফের কাছ থেকে ইয়াবা বিক্রির ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কনস্টেবল প্রশান্ত জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানের গুদারাঘাট এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করার সময় সে একজন মোটরসাইকেল আরোহীর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে। পরে টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয় সে। উদ্ধার ইয়াবার মধ্যে ২০০ পিস ইয়াবা গুলশান থানার এএসআই মাসুদ আহমেদ মিয়াজী নিজের কাছে রেখে দেয়। নায়েক জাহাঙ্গীর আলম রাখে ১৫০ পিস। এসব ইয়াবা তারা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ