কথিত ছেলেধরা নারীর কবল থেকে শিশু উদ্ধার।

এক সন্তানের জননী গৃকর্মী সালমা বেগম। তার নিজের শিশু সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় বের হতেই কয়েকজন যুবক তাকে ‌’উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন শুরু করে। ওইসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলছিল সালমা। এতেই বাধে বিপত্তি।

ছেলেধরা অপবাদ দিয়ে মারধর শুরু করে তারা। হৈচৈ-চিৎকার চেচামেচি শুনে জড়ো হতে থাকে মানুষ। খবর পৌঁছে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। ছুটে আসে সংবাদকর্মী। স্থানীয়দের সহায়তায় সালমাকে গণধোলাইয়ের হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

শনিবার (২০জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর কলসিদীঘির পাড় এলাকায় এঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ৩৮নং ওয়ার্ডের কলসি দিঘির পাড় এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহ এক সন্তানের জননিকে গণপিটুনি দেয়ার খবর পেয়ে দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর বিট ইনচার্জ আব্দুর রহিম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

বিট ইনচার্জ আবদুর রহিম জানান, সালমা বেগম নামে এক মহিলা তার বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় বের হলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয় এবং তার কথার কিছু গড়মিল দেখতে পেয়ে উত্তেজিত জনতা গণপিঠুনি শুরু করে। পরে আমরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বিটে নিয়ে আসি। যাচাই বাছাই করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী সালমা বেগম জানান, ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় বের হতেই কিছু দুষ্টলোক আমাকে উল্টা-পাল্টা কথা বলে, কথায় সাড়া না দেওয়ায় ছেলে ধরা চিৎকার দিয়ে গণপিটুনী শুরু করে। পরে পুলিশ এলাকাবাসী, মানবাধিকার কর্মী গণমাধ্যম কর্মীরা সহায়তায় এগিয়ে আসে।

মধ্যম হালিশহর বিট ইনচার্জ (এস.আই) আব্দুর রহিম আরো বলেন, আজ যে ঘটনাটি ঘটেছে তা নিছুক মিথ্যা-গুজব এবং দুষ্টুলোকদের প্রগন্ডা। মানবাধিকার কর্মী ও সংবাদ কর্মীদের সহায়তায় মহিলাকে উদ্ধার করতে পেরেছি। বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই নারি।

মেজবাহ খালেদ/সীতাকুণ্ড/চট্টগ্রাম