হেমন্তে চারিদিকে সুরের কাঁপন তুলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে জমে উঠেছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট ২০১৯’। সেখানে লোকসংগীতের মধুর মায়ায় মেতে উঠেছে হাজার দর্শক।

সান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে ও সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড-এর আয়োজনে পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বসেছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় লোকসংগীতের অনুষ্ঠান ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট ২০১৯’। তিনদিনব্যাপী এই উৎসব প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে।

লোকসংগীতের এই উৎসবে মানুষ খুঁজে পায় নিজেকে; নিজের অস্তিত্বকে। তাই তো প্রতি বছরের মতো এবারও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে দিয়েছে নতুন প্রাণ। ১৫ নভেম্বর শুক্রবার ফোকফেস্টের দ্বিতীয় দিনে লোকসমাগম ছিল উপচেপড়া। দর্শকদের মাতাতে স্টেজে একের পর এক উঠেছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য লোকশিল্পী কাজল দেওয়ান, বাউল ও সুফি গানের জনপ্রিয় নাম ফকির শাহাবুদ্দিন, বাউলিয়ানা’র কামরুজ্জামান রাব্বি ও শফিকুল ইসলাম, মালি’র লোকগানের জীবন্ত কিংবদন্তি হাবিব কইটে অ্যান্ড বামাদা এবং সুরেলা কণ্ঠের জন্য সুপরিচিত পাকিস্তানের হিনা নাসরুল্লাহ্।

ফোকফেস্টের পঞ্চম আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬টি দেশের ২০০ জনেরও বেশি লোকশিল্পী ও কলাকুশলী জড়ো হয়েছেন একই মঞ্চে। ১৪-১৬ নভেম্বর, ২০১৯ বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দর্শকরা উপভোগ করবেন দেশ বিদেশের সেরা লোকসংগীতশিল্পীদের শিকড় সন্ধানী গান। প্রতিবারের মতো এবারও দর্শক বিনামূল্যে শুধুমাত্র অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করতে পারছেন। সরাসরি অনুষ্ঠানটির টিভি সম্প্রচারের দায়িত্বে রয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশন। এছাড়াও অনুষ্ঠানটি লাইভ শোনা যাবে রেডিও দিনরাতে।

সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট ২০১৯’-এর টাইটেল স্পন্সর মেরিল, পাওয়ার্ড বাই ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, সাপোর্টেড বাই রাঁধুনী, ডিজিটাল পেমেন্ট পার্টনার ডিমানি, রেজিস্ট্রেশন পার্টনার সহজ, সিকিউরিটি পার্টনার এইজিস সিকিউরিটি ফোর্স, মেডিকেল পার্টনার স্কয়ার হসপিটালস্ লিমিটেড, হসপিটালিটি পার্টনার ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন, রেডিও পার্টনার রেডিও দিনরাত, ইন্স্যুরেন্স পার্টনার গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেভারেজ পার্টনার ফ্রেশ, ইন্টারনেট পার্টনার ভিশন টেকনোলজিস লিমিটেড, পিআর পার্টনার মিডিয়াকম, ব্রডকাস্ট পার্টনার মাছরাঙা টেলিভিশন এবং উৎসবের আয়োজক সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড।

মানুষ যদি ঐতিহ্যকে ভুলে যায় তবে একসময় তার আত্মপরিচয়ই মুছে যায়। তাই তো অনেক আপন, বাংলার লোকগানকে আমাদের হৃদয়ে লালন ও ধারণ করতে হবে। সকলের প্রচেষ্টা, ভালোবাসা আর সমর্থনে সারা বিশ্বে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা লোকসংগীত।

আজকের পত্রিকা/সিফাত