ফেনীতে গোলটেবিল বৈঠকে ড. বদিউল আলম মজুমদার

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সারাদেশে ছোট বড় অনেক সম্রাট তৈরী হয়েছে। এ সম্রাট শুধু আওয়ামীলীগে নয়- সব দলেই রয়েছে। এমন সম্রাটদের প্রতিহত করতে হলে প্রয়োজন সকল দলের রাজনৈতিক ঐক্যমত। দেশে এখন দূর্বৃত্তায়ন চলছে। এ দূর্বৃত্তায়ন রোধ করতে সকল দলের প্রয়োজন।

জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরী হতো না। তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন জনগনের সম্মতির আলোকে হয়নি। আর সে কারণেই বর্তমান সরকারের জনগনের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই। জনগনের সম্মতির শাসন সৃষ্টি করতে হবে। সম্রাটদের সরকার নয়- জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্রদের রাজনীতি করা সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার খর্ব করা উচিৎ নয়। তবে লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সোমবার ফেনী শহরের ফুড ল্যান্ড চাইনীজ রেষ্টুরেন্টে একটি মিলনায়তনে সুজন ফেনী জেলা কমিটির আয়োজনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা শীর্ষক’ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

সুজন ফেনী জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট লক্ষণ চন্দ্র বণিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের স ালনায় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ফেনী জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কম, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর তায়বুল হক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক প্রফেসর রফিকুর রহমান ভূঁইয়া, ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল কান্তি পাল, ফেনী ন্যাশনাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সন্তোষ রঞ্জন নাথ, ফেনী সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর উৎপল কান্তি বৈদ্য, ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের নির্বাহী সচিব ডা. এ.এস.এম তবারক উল্যাহ চৌধুরী বায়েজীদ।

আলোচনায় অংশ নেন, ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল মোতালেব, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার নজরুল ইসলাম, জাসদ সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার নুরুল ইসলাম, সিপিবি ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক চৌধুরী রাসেল, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানিক লাল দাস, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক এডভোকেট কায়কোবাদ সাগর, বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার, ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর ও জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সেলিনা চৌধুরী সেলী, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা, ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তোফায়েল আহম্মদ তপু, শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী, শহর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আলম, ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, শহীদ মেজর সালাউদ্দিন মমতাজ বীর উত্তম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শামীমা আক্তার, ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল হক রবি, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক যতন মজুমদার, সময় টিভি রিপোর্টার আতিয়ার সজল, বিডি নিউজ ও মানবজমিন প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম, সাংবাদিক এম এ তাহের পন্ডিত, জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দেবনাথ, চিত্র শিল্পী কিশান মোশাররফ, চারু শিল্পী সুনিল দাস, সাপ্তাহিক শমসের নগর নির্বাহী সম্পাদক কাজী হাবিব উল্যাহ সুমন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মুক্তিযোদ্ধা পেয়ার আহম্মদ, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নশু প্রমুখ।

বৈঠকে সিপিবি জেলা সভাপতি এডভোকেট ফয়েজুল হক মিল্কী, ফেনী পল্লী বিদ্যুত সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন লিটন, এডভোকেট মাহফুজুল হক, এডভোকেট গাজী তারেক আজিজ, এডভোকেট মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক শাহআলম ভূঞা, জেলা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রবিন, ডিবিসি ও অবজারভার প্রতিনিধি আবু তাহের ভূঞা, মাছরাঙা টিভি প্রতিনিধি জমির উদ্দিন বেগ, যমুনা টিভি প্রতিনিধি আরএম আরিফ রহমান, সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এনএন জীবন, এসএ টিভি প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাসেল, বাংলানিউজ স্টাফ করসপন্ডেন্ট সোলায়মান হাজারী ডালিম, অধিকার প্রতিনিধি ও নিউজ টুডে এসএম ইউসুফ আলী, ডেইলি সান প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন, বণিক বার্তা প্রতিনিধি নুর উল্লাহ কায়সার, আমাদের নতুন সময় প্রতিনিধি এম. এমরান পাটোয়ারি, সাপ্তাহিক ফেনী সমাচার সম্পাদক মহিব্বুল্লাহ ফরহাদ, ভোরের ডাক প্রতিনিধি সমির উদ্দিন ভূঞা, হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের দাগনভূঞা উপজেলা সভাপতি নিতাই চন্দ্র দাস, রোটারি ক্লাব ফেনী সেন্ট্রালের সাবেক সভাপতি শাহীন হায়দার, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব ফেনী অপূর্ব এর সাবেক প্রেসিডেন্ট আরাফাত উল মিল্লাত দিপুল, সহায় সমন্বয়ক মঞ্জিলা আক্তার মিমি, বিডি ক্লিন সমন্বয়ক ফখরুল ইসলাম ফাহাদ প্রমুখ।

সার্বিক সহযোগিতা করেন সুজন পৌর কমিটির সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক ইমন উল হক।

ড. বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, সুজনের সংস্কার প্রস্তাবের উদ্দেশ্য সকল দলের সম্মিলিত ঐক্য, দেশকে এগিয়ে নিতে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দেশের বর্তমান যে অবস্থা এতে সর্বক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন। আর তার জন্য প্রয়োজন একটা জাতীয় সনদ। যে সনদটিতে সাক্ষর করবে দেশের সকল রাজনৈতিক দল। সকল রাজনৈতিক দল সদিচ্ছা পোষন করলে এ জাতীয় সনদ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য ২০টি প্রস্তাব উত্থাপন করে সুজন। প্রস্তাবগুলো হলো- রাজনৈতিক সাংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক সংস্কার, গঠনতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল,স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দূর্ণীতি বিরোদী সর্বাত্বক অভিযান, যথাযত প্রশাসনিক সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষন, একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্তিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন।

আলী হায়দার মানিক/ফেনী