কাজী ফয়সাল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

পদ বঞ্চিত ও তাদের সমর্থকদের ফেসবুক থেকে ছড়িয়ে পড়া স্থিরচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে বিবাহিত দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস ও ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে।

এই সংক্রান্তে নির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন স্ট্যাটাসও দিয়েছে ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রী। ১৩ মে সোমবার ছাত্রলীগের ৩০১ জনকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে কোনো পদ পায়নি একাধিক পদ প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী খাদিজাতুল কুবরা। গত কমিটিতে তিনি সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৩ মে সোমবার মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগেরই অন্য একটি গ্রুপের হামলায় আহতদের মধ্যে তিনিও একজন। পরে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।

খাদিজাতুল কুবরা লেখেন, ‘কোমরে, পিঠে লোহার চেয়ার দিয়ে মারছে। পরে প্লাস্টিকের চেয়ার ছুঁড়ে মারতে থাকে। আমি বাইরে যাচ্ছি, পরেই দেখি তিলোত্তমা পড়ে গেছে। ওকে শুইয়ে পানি দিলাম। পরে যখন বাইরে আসলাম তখন কিছু ছেলে ধাওয়া দিলো। তখন আল আমিন রহমান আমাকে ধরে কোনো রকম রক্ষা করলো।’

 

হামলার শিকার আরো এক নেত্রী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জারিন দিয়া। এর আগে তিনি গণিত বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে উদ্দেশ করে ফেসবুকে এই নেত্রী লিখেছেন ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই, আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন, তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে? নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন। গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন, দুই দিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই। অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে। এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না, মানবো না। আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

 

এই স্ট্যাটাসের বিষয়ে জারিন দিয়া বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি আমার পোস্ট।’ ছাত্রলীগের সভাপতি বিবাহিত এই বিষয়ে তার কাছে কী প্রমাণ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কয়েকটি ছবি আছে, যেগুলো দেখলে সবাই বুঝতে পারবে। তবে, সময় আসুক সে ছবিগুলো প্রকাশ করবো। এছাড়া তিনি যে বিবাহিত তা সবারই জানা আছে। আর রাব্বানী আমাকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পদ দেননি।’
তবে, এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করতে বলেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তা না হলে ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমি এই স্ট্যাটাস দেখেছি। কবে বিয়ে করেছে, কাকে বিয়ে করেছে, এটার প্রমাণ দিতে অভিযোগকারীকে জিজ্ঞেস করেন। এই তথ্য কোথায় পেয়েছে? যেখানে এনএসআই ডিজিএফআই কোনো তথ্য পেলো না, সেখানে এসব তথ্য সে কোথায় পেলো? সেটা তাকে জিজ্ঞাসা করেন। আমার সম্পর্কে যে মন্তব্য লিখেছে, সে বিষয়ে আমি তাকে ধরবো। সে যে গত কমিটিতে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকে কেন্দ্রীয় সদস্য পদ পেয়েছে, এটার প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমি তো তিন কমিটিতে রাজনীতি করেছি। কোনোদিন এই মেয়েকে রাজনীতিতে দেখিনি। ওই মেয়ে আমাদের মানহানি করেছে, তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো।’

২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ এক বছর পর ১৩ মে সোমবার ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হয়। কমিটিতে মাদকাসক্ত, বিবাহিত, চাকরিজীবী, বিএনপি পরিবারের সন্তানদের পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বঞ্চিতদের। ছোট ভাই ছোটনকে পদ দেওয়ার কারণে শোভনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।

ছোটভাই ছোটনের সঙ্গে শোভন। ছবি: সংগৃহীত

নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশর্ট তুলে ধরা হলো-

 

আজকের পত্রিকা/কেএফ