ছাত্রলীনেতা মিজানুর।

এক সময়ের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বর্তমানে ফুলবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি, পৌর এলাকার বারকোনা (ষ্টেশনপাড়া) গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান।

গত দুই মাস পুর্বে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরতর আহত হয়ে এখন পঙ্গুত্ব জীবন-যাপন করছেন।

পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে এতদিন চিকিৎসা করালেও, বর্তমানে অর্থের অভাবে থেমে গেছে তার চিকিৎসা। এদিকে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গত দুই মাস থেকে বিছানায় পড়ে থাকলেও, এখন পর্যন্ত কেউ তার খোঁজ নেয়নি। চিকিৎসার জন্য প্রধান মন্ত্রীর নিকট লিখিত আবেদন করেও এখন প্রর্যন্ত কোন সাড়া মিলেনি। এদিকে সে সুস্থ হতে না পারলে, অনিশ্চিত হয়ে পড়বে তার দুই নাবালক ছেলের ভবিষৎ।

মিজানুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বলেন, চলতি সনের গত ২০ মার্চ, নওগাাঁ জেলায় তার এক নিকটাত্মীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময়, তাদেরকে বহনকৃত অটোরিক্সা উল্টে গিয়ে তার বাম পাঁ পুরোপুরি ভেঙ্গে যায়, ওই সময় তাকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে নওগাঁ জেলার সিভিল সার্জন অর্থোপেডিকস চিকিসৎ ডাঃ আব্দুল বারী তার পায়ে অস্ত্রোপচার করে, ও বর্তমানে ডাঃ আব্দুল বারীর তত্ত্ববাবাধনে তার চিকিৎসা চলছে, এই পর্যন্ত তার চিকিৎসার ব্যায় হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। চিকিৎসার খরচ বহন করতে তার পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া তিন বিঘা জমি বিক্রি করতে হয়েছে। সেই টাকাও এখন শেষ।

এদিকে চিকিৎসকেরা বলছেন, তাকে আবারো এক বার তার পায়ের (অপারেশন) অস্ত্রোপচার করতে হবে এবং আরো এক বছর তাকে বিশ্রামে থেকে চিকিৎসা করাতে হবে। এছাড়াও তিনি ডায়াবেটিকস ও হৃদরোগে ভুগছেন, কিন্তু তিনি কিভাবে এই চিকিৎসার ব্যায় বহন করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমান বলেন, সে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পড়ে থাকা দুই মাস পেরিয়ে গেলেও, এখন পর্যন্ত দলের কোন নেতা-কর্মি তার কোন খোঁজ নেয়নি। অথচ এক সময় দলের নেতা-কর্মির ভিড় লেগে থাকতো তার বাড়ীতে। বর্তমানে তিনি চার দেয়ালের মাঝে একা, এক নির্ভিত বাসিন্দা হয়ে পড়েছেন

মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ১৯৯৭ সালে ছাত্রলীগের ফুলবাড়ী শহীদ স্মৃতি আদশ্য কলেজ শাখার আহবায়ক নির্বাচিত হয়, এরপর ১৯৯৮ সালে ওই কলেজ শাখার সভাপতি ও ১৯৯৯ সালে ফুলবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়, এরপর দল বিরোধী দলে থাকাকালীন ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তিনি ফুলবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় অনেক পুলিশি নির্যাতনসহ নানা প্রতিকুলতায় তাকে উপজেলা ছাত্রলীগ পরিচালনা করতে হয়েছে।

এরপর তিনি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১৩ সালে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় আসার পরে, অনেকের বিরুদ্ধে অনেক সমলোচনা হলেও তার নামে কোন ব্যাংক একাউন্ট নাই। সবসময় তিনি সকল লোভ-লালসার উধ্র্বে উঠে, কেবলমাত্র জাতির জনক বন্ধবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মি হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ও তার পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য কাজ করেছে। আজ তার নিকট চিকিৎসা করার অর্থও নাই।

মিজানুর রহমান বলেন, তার চিকিৎসার সাহায্য চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করেছেন, কিন্তু এখন প্রর্যন্ত কোন সাড়া পাননি। এদিকে অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে তার চিকিৎসা। এজন্য তিনি মানবতার মা হিসেবে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

মেহেদী হাসান উজ্জল/ফুলবাড়ী