ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে যোগদান করেই আল নাহিয়ান খান জয় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সতর্কবার্তা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ কোনো অন্যায়কারী, চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজকে প্রশ্রয় দেবে না। কেউ চাঁদাবাজি করে ছাত্রলীগের দুর্নাম করছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবেন।

সাম্প্রতিক নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাঁদের পরিবর্তে শনিবার রাতেই জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দায়িত্বভার গ্রহণের পর ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ সময় আল নাহিয়ান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাদের ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই মুহূর্তে এটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা মনে করি, যত চ্যালেঞ্জই আসুক, সব মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো।’

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ থেকে কমিশন দাবি, টাকার বিনিময়ে কমিটিতে পদ দেওয়া, অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রদর্শনসহ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসে। ৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই ছাত্রলীগের এই দুই নেতার ভবিষ্যৎ নিয়ে দলে নানা আলোচনা শুরু হয়।

১৪ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ছাত্রলীগের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। সভায় উপস্থিত সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দুই শীর্ষ নেতাকে বাদ দেওয়ার কথা বলেন। এ সময় তিনি তাঁদের পদত্যাগ করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।

আজকের পত্রিকা/সিফাত