দিনমজুর আরিজুল ইসলাম খান

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আরিজুল ইসলাম খান। শ্রমিক হিসেবে রোজগারের উপার্জন দিয়েই সংসার চলে তার। স্থানীয় একজনের গৃহবধুর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক আবু হোসেন খান মন্টুর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্টুর স্ত্রী ও দুই ছেলে একত্রে মারপিট করে মন্টুকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

মন্টুর ছেলে ছাত্রদল নেতা নাজমুল ইসলাম ঘটনাটি নিয়ে দোষারোপ করে আরিজুলের স্ত্রীর উপর। বাবার পরকীয়ার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী আকিজ ও মাজেদের স্ত্রীর মাথা ফাঁটিয়ে দেয় নাজমুল ও তার ভাই কচি। এই ঘটনা নিয়েই বিরোধ আরিজুলের সঙ্গে নাজমুলের। বর্তমানে এই ছাত্রদল নেতার অত্যাচারে বসতভিটা ছাড়ার উপক্রম হয়েছে আরিজুলসহ তার পরিবারের।

এসব কথা জানিয়ে ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা আরিজুল ইসলাম জানান, এক জায়গায় বসবাস আমাদের। নাজমুল তালা সরকারি কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৩ সালে ইসলামকাটি ইউনিয়নের কাউন্সিল মোড় এলাকায় তালা থানা পুলিশের উপর হামলা, তালা সরকারি কলেজ ভাংচুরসহ কলারোয়া থানায়ও একাধিক নাশকতা মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক মহিলা পুলিশ সদস্যের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল নাজমুল। পরে সেটা নিয়েও মামলা করেন ওই নারী পুলিশ সদস্য।

নাশকতা মামলাসহ একাধিক মামলায় জেল থেকে বেরিয়ে নাজমুল বেপোরোয়া হয়ে উঠেন। আমার ও আমার পরিবারের সদস্যের নামে আদালতে কাল্পনিক মামলাও দেয়।

বর্তমানে আমাকে, আমার ছেলে তরিকুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যের বিভিন্ন সময় খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে। অপরিচিত সন্ত্রাসী ক্যাডারদের বাড়িতে নিয়ে আমাদের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও জানান, থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে প্রচার দিচ্ছে এলাকায়। এসব ঘটনায় নাজমুল ও তার ভাই কচি খানকে সহযোগিতা করে তার মামা আবু বক্কার খান। আবু বক্কার খান মাঝে মধ্যেই ভারতে যায়। সেখান থেকে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান করে বক্কার। নাজমুলকেও অস্ত্র এনে দিয়েছে তার মামা বক্কার।

আমাকে হুমকি দিচ্ছে, অস্ত্র মামলায় আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে। আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স, সেনেটারী অফিস থেকে লাইসেন্স নিয়েছি। বিভিন্ন মানুষদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে মাঝে মধ্যে চানাচুর ভেজে বিক্রি করি। সেটিও বন্ধ করে দিচ্ছে। আমার নামে আদালতে কাল্পনিক মামলা দিয়েছে। আমি অসহায় মানুষ।

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি নিরাপত্তা ও হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।