এভাবেই যত্রতত্র চলছে মূত্রত্যাগ।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌর শহরে প্রায়ই চোখে পড়ে দেয়ালে দেয়ালের সাইন প্লেট ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না, করিলে ৫০ টাকা জরিমানা’। কিন্তু কে শোনে কার কথা? দেখা যাবে ঠিক ওই জায়গায়ই আরও বেশি করে মূত্র (প্রস্রাব) ত্যাগ করছে অনেকে। অনেক জায়গায় ফুটপাথের ওপরেও মূত্র ত্যাগ করে কেউ কেউ।

ফলে ওইসব জায়গা দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচলের সময় চরম বিপত্তিতে পড়ে। মূত্রের প্রকট দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে হাঁটতে হয় পথচারীদের। কোথাও কোথাও আবার ফুটপাথের ওপরই মলত্যাগ দেখা যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, যারা ফুটপাথের ওপর বা রাস্তার পাশে মল-মূত্র ত্যাগ করছে তারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে করছে? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলছেন, নিতান্ত বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে মল-মূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে। এখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি নেই বলে দাবি তাদের।

এখানে নেই পাবলিক টয়লেট, নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও টিবউবওলের ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন পৌরশহরের উত্তর বাজারের কসাই খানার সামনে ১টি ও দক্ষিণ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মাছের বাজারে ১টি টয়লেট নির্মাণ করা হলেও এখন তা ব্যবহৃত উপযুক্ত নয়।

নোংরা পরিবেশে দুর্গন্ধের ফলে মলমূত্র ত্যাগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে।

পৌরশহরের সতং রোডের পাশে ড্রেইনের ফাঁকা জায়গা, থানা রোডের ফাঁকা জায়গা, পোষ্ট অফিসের পাশে ড্রেইনের ফাঁকা জায়গা, ডাকবাংলো রোডের পাশে মরা খোয়াই নদীতে, রানীগাঁও রোডের মরা খোয়াই নদীতে, দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালের টয়লেট, হাসপাতাল গেইটের ফাঁকা জায়গাসহ পৌরশহরের ফাঁকা রাস্তা ও বিভিন্ন স্থান বেছে নিয়েছে স্থানীয় জনগণ ও রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে চুনারুঘাট পৌরসভা সদর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।

এ এলাকায় গড়ে উঠেছে বড় বড় বিপনি বিতান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, এনজিও, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য দোকান পাট।

পৌর সদরে প্রতিনিয়তই লক্ষাধিক মানুষের আনাগোনা, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোন পাবলিক টয়লেট না থাকার ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।

এছাড়া ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য নেই কোনো ডাস্টবিন। নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

চুনারুঘাট ফরেস্ট অফিস ও পোষ্ট অফিসের পাশে খোলা জায়গায় মলত্যাগ করার ফলে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ ও জনভোগান্তি। অন্যদিকে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হয় নারীদেরও।

পাবলিক টয়লেট না থাকার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ও পথে-ঘাটে সাধারণ মানুষের বিড়ম্বনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি ময়লা আবর্জনাগুলোও ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র । যার ফলে পৌরসভা সদরের সিএনজি ষ্ট্যান্ডগুলি, পথচারী ও সিএনজি চালকদের মলমূত্র ত্যাগে ভাগারে পরিনত হয়েছে।

উপজেলা পোষ্ট মাষ্টার এস এম মিজান জানান, পাবলিক টয়লেট ও ডাস্টবিন না থাকায় লোকজন অফিসের সামনে এসে প্রস্রাব-পায়খানা করে ময়লা ফেলে। এ অবস্থায় আমরা অফিস করি অনেক কষ্ট করে। অনেক সময় পোষ্ট অফিসের দরজা -জানালা বন্ধ করে অফিস করতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া পোষ্ট অফিসে আসতে চান না।

উত্তর বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ১ টা টয়লেট থাকলেও নোংরা পরিবেশ থাকায় উত্তর বাজারের ব্যবসায়ীরা মহাবিপাকে পড়তে হচ্ছে।

এ টয়লেটে একবার গেলে আরেক বার যাওয়ার ইচ্ছা হবে না।

এই টয়লেট কর্তৃপক্ষ উত্তর বাজারে সকল ব্যবসায়ী হতে প্রতি মাসে ১শত টাকা করে নেন টয়লেট ও হাত -মুখ ধোয়ার জন্য। কিন্তু নেই কোন পরিষ্কার-পরিছন্নতা।

প্রতিনিয়তই কসাই খানায় অসাস্থ্য নোংরা পরিবেশে পশু জবাই করা হয়ে থাকে। জবাইকৃত পশুর রক্ত ও বর্জ্য এখানেই পরে থাকে। পরিষ্কারের অভাবে সেখানে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা দুর্গন্ধময় পরিবেশে এখানে ব্যবসা করতে হয়।

এ ছাড়া চুনারুঘাট পৌরসভা সদরে অবস্থিত বাজারেও কোনো টয়লেট ও ডাস্টবিনের ব্যবস্থা নেই।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস