বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পাশ্চাত্যের পর ভারত ও অষ্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা যেমন জনপ্রিয় হয়েছে। অতি সম্প্রতি চীনও তেমন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মাত্র বছর পাঁচেক আগে যেখানে মাত্র ৪-৫’শ বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী সারা চীনে পড়াশোনা করত, তারও বেশীর ভাগ স্কলারশীপে, সেখানে এখন হাজার-হাজার বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছে। তাও এর বেশীর ভাগই এখন আছে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের চীনে পড়াশোনায় এই আগ্রহ বাড়লেও অনেক ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্নকারণে সফল হচ্ছেন না বা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন। আমি যা যা জেনেছি তা সংক্ষেপে নীচে তুলে ধরছি, যাতে নতুন একজন চীনে ভর্তিচ্ছু বাংলাদেশী কিছুটা হলেও লাভবান হতে পারেন।
চীনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্যে ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের যেসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন তা হলঃ

০১। ভাষাঃ
যে কোন বিষয়ে চীনে পড়াশোনার জন্য প্রথমে কমপক্ষে ১ সেমিস্টার (৬ মাস) চীনা ভাষা শিখতে হবে। যদিও মূল বিষয় (গধলড়ৎ) ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে তবু চীনা ভাষায় অন্ততঃ কথাবার্তা বলার যোগ্যতা অর্জনের জন্যে চীনা ভাষা জানা বাধ্যতামূলক। তবে মাস্টার্স বা পিএইচ.ডি. কোর্সে সীমিত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা রপ্ত ছাড়াও পড়াশোনার সুযোগ আছে।

আবার চীনা ভাষার মাধ্যম নিয়ে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করলে সহজেই স্কলারশীপ পায় – এমনকি মাসিক সব খরচতো মওকুফ হবেই – আরো মাসিক স্টাইপেন্ড পেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে মূল কোর্সে যাওয়ার আগে ভাষা কোর্সে পারদর্শী হতে হবে (না হয় সে চীনা ভাষার লেকচার ফলো করবে কীভাবে?)।
স্টাইপেন্ড পেতে এই ভাষার পারদর্শীতার জন্যে ঐঝক (টোফেল/ আই.এল.টি.এস-এর মত চাইনিজ ভাষা পরিক্ষা) গ্রেড-৪ পাশ করতে হবে। আমার জানামতে, অনেক বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী এক সেমিস্টার চীনা ভাষা শিখেই ঐঝক-৩ পাশ করেছে। তবে এক সেমিস্টার স্টাডি করে ঐঝক-৪ পাশের নমুনাও অনেক আছে। সেক্ষেত্রে চীনে এসে ভাষা ক্লাশে খুব ভালভাবে মনোযোগ দেয়া এবং পাশাপাশি ঐঝক-পরিক্ষার খুটিনাটি প্রথমেই জেনে নেয়া দরকার। প্রয়োজন মত কিছু ডামি টেস্ট একটু আগে করা গেলে ভাল প্রিপারেশন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনিস্টিটিউট ও সম্প্রতি শুধু করা কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪/৮ মাসের কোর্স সম্পূর্ণ করা যেতে পারে।

এ পাঠ্যক্রমগুলো সম্পূর্ণ চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমান না হলেও অন্ততঃ চীনা ভাষা সম্পর্কে একটা প্রাথমিক জ্ঞান হবে এবং তা চীনে এসে পড়াশোনার জন্যে মূল্যবান হবে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোর্স ফি চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পানির দাম মাত্র। ঢাকায় বর্তমানে কয়েকটি প্রাইভেট টিউটোরিয়াল প্রতিষ্ঠানেও চীনা ভাষা শেখানো হয় বলে শুনেছি, যদিও এর মান সম্পর্কে আমার ধারণা নেই।

০২। কোথায় পড়বেন?
চীন একটি বড় দেশ। এর বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন আবহাওয়া আছে। যেমন- এমনও হতে পারে, এক এলাকায় গরমে অতিষ্ট – আর তখন অন্য এলাকায় শীতের মত গরম কাপড় পড়তে হয়। বাংলাদেশের বিষূবীয় অঞ্চলের গরম আবহাওয়ায় যাদের জন্ম ও বড় হয়েছেন তারা জীবনে প্রথম যদি ৬ মাস বা তারও বেশী বার্ষিক শীতের এলাকায় এসে পড়েন, তাহলে সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতেই প্রথম সেমিস্টার চলে যেতে পারে। আমি বলছিনা সবার ক্ষেত্রে এটা হবে, তবে অনেকের হতে পারে। এখাণে ছাত্র-ছাত্রী যখন ভার্সিটি চয়েস করেন তখন ভার্সিটির লোকেশন ভালভাবে স্টাডি করে নিজের উপযোগিতা দেখে নেবেন।

ভার্সিটি রেটিং অনেকের কাছে গুরুত্ববহ বিষয়, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, যে ভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রেটিং করে তা সাধারণ ভাবে বাংলাদেশের একজন ছাত্রের কাছে অপ্রয়োজনীয়। যেমন ভার্সিটি রেটিং-এ প্রতিষ্ঠানটি কত পূরনো, কত বেশী ফ্যাকাল্টি আছে, কত বেশী জায়গা, ভবন, ক্লাস রুম, ডরমেটরী, শিক্ষক, ছাত্র, শিক্ষা সরঞ্জাম, খেলার মাঠ ছাত্র কল্যাণ, বার্ষিক ফলাফল, স্কলারশীপ দেয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি বহু কিছু। আমার ধারণা, একটি বিষয় পাঠদানের যদি যথেষ্ট মান সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক কোন ভার্সিটিতে থাকে এবং পাঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতি চীনের সরকারিভাবে ধার্য স্টান্ডার্ডের সমকক্ষ হয় তাহলে তাই যথেষ্ট। আর চীনের সকল বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নয় সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সরকারি পর্যবেক্ষণের মধ্যে মান নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই রেটিং নিয়ে অযথা মাথা ঘামানো অর্থহীন। তবে উচ্চ রেটিং এর চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি সাধারণভাবে অনেক বেশী এবং তা টঝ/ টক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সমান। শুধুমাত্র স্কলারশীপ পেয়ে যেখানে পড়াশোনাই বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর জন্যে যথেষ্ট সেখানে রেটিং নিয়ে ভেবে কী হবে।

চীনে সবচেয়ে বেশী বিদেশী ছাত্র পড়াশোনা করে বেজিং-এ । বেজিং-মূলত চীনের রাজধানীর সুবাদে সকল কূটনৈতিক পাড়া এখানে আর এর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল অনেক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এখানে অবস্থিত। এর পরপর রয়েছে সাংহাই, শানশি প্রদেশের রাজধানী শিয়ান, হ ূবেই প্রদেশের রাজধানী উহান, গুয়াংডং এর রাজধানী গুয়াংঝৌ, জিয়াংসুর রাজধানী নানজিং, সিচুয়ানের চংচিং ঝেঝিংয়ায়ের হংঝৌ, হেবেই-র শি জিয়া জুয়াং ইত্যাদি। আমি যেসব জায়গার নাম উল্লেখ করলাম সেসব জায়গায় একই শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশী। এর বাইরেও অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অনেক ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে।

চীনে মেডিকেল কলেজ সাধারণত স্বতন্ত্র নেই প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল এবং নার্সিং ফ্যাকাল্টি রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ও ছোট বড় প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। চীনে প্রচুর পলিটেকনিক কলেজ আছে, যার অনেকগুলোতেই বহু বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ। এর মধ্যে অনেকগুলি পলিটেকনিক বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী এলাউ করে। তবে পলিটেকনিকে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী এলাউ করলেও শিক্ষা-ভাষা-চাইনিজ।

০৩। ব্যয়ঃ
চীনে ভার্সিটি থেকে ভার্সিটির শিক্ষা ব্যয় অনেক তফাত হয়। জীবনযাত্রা ব্যয়ও শহর থেকে শহরে অনেক না হলেও কিছু তফাত আছে। যেমন- এক সেমিস্টার চীনা ভাষা কোর্সে কোথাও টিউশন ফি ৮৮০০ আর.এম.বি. আবার কোথাও ১৫০০ আর.এম.বি.। মেডিকেল স্টুডেন্টের টিউশন ফি বার্ষিক ২০,০০০ আর.এম.বি. নূন্যতম। উর্ধ্বে ৪০,০০০ আর.এম.বি,। ইঞ্জিনিয়ারিংও প্রায় অনুরূপ।

হোস্টেল ফিও বিভিন্ন ভার্সিটির বিভিন। যেমন উচ্চ-মধ্য-নিম্ন রেট আছে, তেমনি আবার একই কক্ষে ১ জন থেকে ৪ জন থাকার সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন রেট আছে। এর ফলে ভার্সিটি ভেদে বার্ষিক ১৫০০ আর.এম.বি. থেকে শুরু করে উর্ধ্বে ১২০০০ আর.এম.বি. পর্যন্ত আছে।

টিউশন ফি ও হোস্টেল চার্জ ছাড়া এনরোলমেন্ট ফি, ইন্সুরেন্স ফি, লাইব্রেরী বা বই-পুস্তকের ফি দিতে হয়। এসব প্রতি আইটেম বার্ষিক ৪০০-৬০০ আর.এম.বি-র মধ্যে। এছাড়া স্টুডেন্ট ভিসা (রেসিডেন্ট পারমিট) বাবদ বার্ষিক ৬৫০ আর.এম.বি. ইমিগ্রেশনে পে করতে হয়। সকল ছাত্র-ছাত্রী ভার্সিটি ডরম ও ক্যাম্পাসে সাধারণতঃ ফ্রি ওয়াইফাই পেয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য বীমা থাকায় যে কোন ধরনের চিকিৎসা খরচ ইন্স্যরেন্স কোম্পানী থেকে পায়।

০৫। স্কলারশীপঃ
চীনা কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশী শিক্ষার্থীদের কয়েক ধরনের স্কলারশীপের ব্যবস্থা রেখেছে। যেমন- সিএসসি স্কলারশীপ, সম্প্রতি প্রবর্তীত বেল্ট এন্ড রোড, গর্ভমেন্ট টু গর্ভণমেন্ট এসচেন্ড স্কলারশীপ ইত্যাদি।
এর পর রয়েছে প্রোভিন্সিয়াল ও সিটি গভর্ণমেন্টের স্কলারশীপ ফান্ড এবং প্রত্যেক ভার্সিটির নিজস্ব স্কলারশীপ। মনে রাখা দরকার, চীন বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ এবং চীনা ছাত্র সংখ্যাও সর্বাধিক। প্রায় সব স্কলারশীপ বিদেশের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চীনা শিক্ষার্থীরাও পেয়ে থাকে তবে কোটা ভিন্ন। আবার বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়ায় সকল দেশের কোটা সমান নয়। তাছাড়া বর্তমান বহুল আলোচিত জঙ্গী প্রশ্নে ইরাক, সিরিয়া, আফগান, পাকিস্তান ইত্যাদি বহু দেশের শিক্ষার্থীকে অনেক ভার্সিটি স্কলারশীপ দেয় না। সৌভাগ্য, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে কোন বাঁধার সম্মুখীন নয়।

স্কলারশীপ হতে পারে বিভিন্নভাবে যেমন ফুল টিউশন ফি রেহাই, কিন্তু ডরম ও অন্যান্য খরচ দিতে হবে। আবার এমনও হতে পারে টিউশন ফি অর্ধেক বা আংশিক রেহাই কিন্তু অন্যান্য খরচ দিতে হবে। আবার এমন হতে পাওে, টিউশন ফি ও ডরম্ ফি দুটোই রেহাই কিন্তু অন্যান্য খরচ দিতে হবে। আবার এমন হতে পারে- টিউশন, ডরম, এনরোলমেন্ট এবং লাইব্রেরী/ বইপুস্তক ফি সবই ফ্রি।

সীমিত ক্ষেত্রে চীনে আসার আগে শিক্ষার্থীর নিজ দেশের রেকর্ড পত্রের ভিত্তিতে স্কলারশীপ দেওয়া হয়। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট স্কলারশীপ দেয় সেখানে চীনে আসার পূবের্র তার নিজ দেশের শিক্ষার ফলাফলের ওপর স্কলারশীপ বিবেচনা করা হয় না। আর চীনে এসে পড়াশোনা শুরুর পর শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী বছরের ক্লাস উপস্থিতির হার, পরীক্ষার ফল, শিক্ষা বহিভূূত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পারফরমেন্স, সাধারণ আচরণকে বিবেচনা করা হয়। এতে ফুল/ হাফ স্কুলারশীপ পাওয়া কঠিন নয়।

মোটামুটি চীনা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এখন বিদেশী শিক্ষার্থীদের চীনে স্কলারশীপ পাওয়া খুব কঠিন নয় যেহেতু এর বিভিন্ন ফান্ড রয়েছে। স্কলারশীপের আবেদন করার সময় প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন গ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখ থাকে। এটা জেনে সময়মত অনলাইনে বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। অনেক ভার্সিটি আগে আসলে আগে ভিত্তিতে স্কলারশীপ গ্রান্ট করে। তাই যথাসম্ভব আগে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা উচিত।

স্কলারশীপ আবেদনের সাথে শিক্ষার্থীর যে সব ডকুমেন্টস ভার্সিটিগুলো চায়ঃ
(ক) পূর্ববর্তী পাবলিক পরিক্ষাগুলোর সার্টিফিকেট ও মার্কস শীট
(খ) পাসপোর্টের বাহকের ইনফরমেশন পেজ
(গ) সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের/ ২ জন শিক্ষকের সুপারিশপত্র।
(ঘ) মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট
(ঙ) নো ক্রাইম পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
(চ) শিক্ষার্থীর ছবি
এসব ডকুমেন্টের সব স্ক্যান কপি দিতে হয়।

০৬। পাঠ্য সেশন (সেমিস্টার) ও ভর্তি প্রক্রিয়াঃ
সারা চীনে শিক্ষা বিভাগের নিয়মানুযায়ী উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা বার্ষিক ২টি সেমিস্টারে বিভক্ত। প্রতি সেমিস্টার ৬ মাস মেয়াদী। তবে এর মধ্যে বেশীর ভাগ ভার্সিটিতে ৪ মাস ক্লাস হয় এবং ঐ ৪ মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেয় ও ফলাফল প্রকাশ করে দেয়। ৬ মাসের বাদ বাকী সময় হলিডেস।

চীনে সকল ভার্সিটিতে নিয়মিত বিষয় (গধলড়ৎ) নিয়ে যে পড়াশোনা করানো হয় তা ব্যাচেলর্স, মাস্টার্স ও পিএইচ.ডি. কোর্সে বিভক্ত। এগুলোকে ডিগ্রি কোর্স বলে। যে কোন ভাষা বা ডিপ্লমা কোর্সকে নন-ডিগ্রি কোর্স বলে।

ডিগ্রি কোর্স প্রায় সব ভার্সিটিতে বছরে একবার সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে ৪ বা ৫ মাস চলে। কোন কোন ভার্সিটি মার্চ মাসেও কোন কোন সাবজেক্টে নতুন ব্যাচ ইনটেক করে। তবে ভাষা ও পিএইচ.ডি. কোর্সে কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্ন সময়সূচীও হতে পারে। সেপ্টেম্বর ইনটেকের ভর্তি আবেদন জমার ডেডলাইন সাধারণভাবে ৩০ মে। তবে কতক ভার্সিটি ৩০শে জুন বা আরো কিছু বর্ধিত সময় পর্যন্ত আবেদনের ডেডলাইন নির্ধারন করে।

ভর্তি আবেদন গৃহীত হলে ছাত্রের বরাবরে ভার্সিটির ভর্তি বিভাগ/ ইন্টারন্যাশনাল অফিস একখানি এডমিশন নোটিশ (একসেপ্টেন্স লেটার) ইস্যু করে। এর একটি কপি ও আবেদনকালীর দাখিলকৃত সকল কাগজ পত্রের একসেট সংযুক্ত করে ভার্সিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরে পাঠায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব কিছু ঠিক মত পেলে ঔড-১ অথবা ঔড-২ ইস্যু করে ভার্সিটি বরাবরে পাঠায়। মন্ত্রণালয়ে ভার্সিটির কাগজপত্র পাঠানো (অন লাইন হলেও) ও মন্ত্রণালয়ের ঔড ইস্যুতে কম করে হলেও ১০ দিন এবং উর্ধ্বে ২৫ দিন পৌঁছাতে পারে। অরিজিনাল ঔড ভার্সিটি পাওয়ার পর অরিজিনাল এডমিশন নোটিশ সহ শিক্ষার্থীর ঠিকানায় উঐখ যোগে পাঠায় বা চায়নার তার কোন এজেন্টের কাছে দেয়।

৭। ভিসা প্রক্রিয়াঃ
শিক্ষার্থী ভার্সিটি থেকে উক্ত অরিজিনাল ডকুমেন্ট পাওয়ার পর চীনা দূতাবাসে ভিসা আবেদন করতে পারবে। এ জন্য তার আগে মেডিকেল টেস্ট করা না হয়ে থাকলে তখন করে নিতে হবে।
ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের ওয়েসবাইটে অনলাইনে আবেদন ফরম পুরন করে প্রিন্ট আউট সংগ্রহ করে পাসপোর্ট, ভর্তি ডকুমেন্টস, মেডিকেল রিপোর্টসসহ দূতাবাসে জমা দিতে হবে। দূতাবাস ছাত্রের অরিজিনাল শিক্ষা সনদগুলো বা জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি দেখতে চাইতে পারে। এ পর্যায়ে দূতাবাস যে ভিসা ইস্যু করবে তা ১ মাস মেয়াদী। অর্থাত চীনে প্রবেশের ১ মাসের মধ্যে ভার্সিটিতে উপস্থিত হয়ে ভার্সিটির পাওনা সকল ফিস পরিশোধ করতে হবে এবং ভার্সিটি কর্মীর সহায়তায় স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে ৬ মাস/ ১ বছর মেয়াদের রেসিডেন্ট পারমিটের আবেদন করতে হবে। ২০/২৫ দিনের মধ্যে এই রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যু হয়। রেসিডেন্ট পারমিট আবেদনের সাথে শিক্ষার্থীর ঐ শহরের ফরেনার্স হসপিটালে আর একবার মেডিকেল টেস্ট করে তার রিপোর্টও জমা দিতে হবে। এই মেডিকেল টেস্টের ফি ৪০০-৫০০ আর.এম.বি.।

০৮। গুরুত্বপূর্ণঃ
ইদানিং অনলাইনে অনেক প্রাইভেট এজেন্টের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়- যা আমার উল্লেখিত তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সবাইকে বলব বাস্তব প্রমাণ ও নিয়ম কানুন ঠিক মত গ্রহণ করার জন্যে। যেমন, যদি কেউ বলে ৫দিনে ঔড ইস্যু হবে। এটা আমার বোধগম্য নয়। ঔড ইস্যু অথরিটি ভার্সিটি নয়, মন্ত্রণালয় এবং অরিজিনাল কাগজ মন্ত্রণালয় থেকে ভার্সিটির রিসিভ করতে হবে। শুধু তাই নয় যে সেশন টার্গেট করে শিক্ষার্থী ভর্তি আবেদন করছে তা কখন বিবেচিত হবে, কখন এডমিশন নোটিশ ও ঔড শিক্ষার্থী হাতে পাবে ও দূতাবাস কখন ভিসা ইস্যু করবে, ভিসা পাওয়ার পর কত তারাতারি এয়ার টিকেট কিনে চীনে আসতে পারবে ও নির্ধারিত ক্লাস করতে পারবে- তা শিক্ষার্থীকে খেয়াল করতে হবে।

কীভাবে ভাসির্টি কন্টাক্ট করবেন?

প্রথমতঃ এজেন্ট/ এডুকেশন কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে করা যেতে পারে। তবে অনেক এজেন্ট/ কনসালট্যান্ট প্রথমেই নন-রিফান্ডেবল সার্ভিস চার্জ চায়। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর কোন কিছু নিজের বাছ বিচার করার সুযোগ থাকে না- যদি না প্রার্থী ঐ সার্ভিস চার্জটুকু খোয়াতে না চায়। তবে যেসব এজেন্ট/কনসালট্যান্ট সব কাজ শেষ করে ঔড হস্তান্তরের বিনিময়ে সার্ভিস চার্জ নেয় তারা ভাল।

দ্বিতীয়তঃ নিজে নিজে প্রার্থী যোগাযোগ করে যদি ভর্তি এমনকি স্কলারশীপ সংগ্রহ করতে পারে সেক্ষেত্রে তার এজেন্ট ফি বেঁচে যায়। তবে এক্ষেত্রে একটু ধৈর্য্য ও কষ্ট করার মানসিকতা থাকতে হবে। এমনও হতে পারে ৩টি ভার্সিটিতে যোগাযোগ করে ৩টি থেকেও কনফার্মেশন পাওয়া গেল। তখন বাছাই করতে হবে কোনটা রেখে কোনটা নেব। আবার এমনও হতে পারে ৭/৮ এমনকি ১০/১২ টায় আবেদন পাঠিয়েও ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরে আরো কয়েকটি ভার্সিটিতে আবেদন পাঠাতে হয়।
চীনে অধ্যয়নরত ছাত্র বা সদ্য পড়াশোনা শেষ করছে এমন অনেকে অনলাইন গ্র“পে বিজ্ঞাপন দিয়েও প্রাইভেটলি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করায়- এমনকি কেউ কেউ স্কলারশীপও সংগ্রহ করে দিতে পারে। তবে ঐ ছাত্র/ব্যক্তি যদি অনলাইন ছাড়া আলাদাভাবে জানা শোনা না থাকে তাহলে লেনদেন করায় ঝুঁকি থাকতে পারে। এমনকি সব কাজ শেষ করে সার্ভিস ফি নেবার যে ওয়াদা করে সেও প্রার্থীর সফলতা বা বিফলতার রেজাল্ট যদি ডেডলাইনের যথেষ্ট আগে দিতে না পারে তাহলে প্রার্থীর একটি বছর অপচয়ের সমস্যা থাকে।
নীচে চীনের ৫০০ ভার্সিটির একটি ওয়েব লিংক দেয়া হল। এখানে গিয়ে যে কোন ভার্সিটির নাম ধরে সার্চ করে সাধারণভাবে ভার্সিটির ওয়েবসাইট ও সব প্রয়োজনীয় তথ্য বা চুড়ান্ত লিংক পাওয়া যাবে।

https://www.4icu.org/cn.
-Ahmed S. Huq
[email protected] (21.06.2018)
http://www.english-bangla.com/posts/bangla_typing

লিখেছেন- আহমদ শহীদুল হক