প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পুন্ট্রি ইউনিয়নের গমিরাহাট এস,সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের (৫২) বিরুদ্ধে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার স্কুল ছুটির শেষে ওই প্রধান শিক্ষকের নিজ কক্ষেই এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ওই শিক্ষকের শাস্তি চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক অভিযোগ করেছে।

গতকাল বুধবার বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করলে এলাকাবাসী স্কুলের অফিসে সকালে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে ওই এলাকাকার ইউপি চেয়ারম্যান মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে স্কুলের তালা খুলে দেয়।

ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা কয়েকজন অভিযোগ করে জানায়, স্কুল ছুটির শেষে আমরা তিনজন ছাত্রী জনক রায় স্যারের কাছে গণিত প্রাইভেট পড়ার জন্য অপেক্ষা করি। ওই সময় স্কুল থেকে সবাই চলে গেলেও সিরাজুল স্যার অফিসেই ছিলো । তখন তিনি আমাদের তিনজনকে তার রুমের মধ্যে ডেকে নেয় এবং আমাদের জিজ্ঞেস করে তোমাদের স্যার আর কত সময় পর আসবে।

পরে আমাদের দুইজনকে একটি অংক করতে দিয়ে তিনি আমাদের বের করে দেয় এবং তাকে কি যেন দেখাবে বলে থাকতে বলে তিনি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন । সে সময় শিক্ষকের কাছ থেকে কোন রকমে দৌড়ে পালিয়ে ওই ছাত্রী এসে কাঁদতে কাঁদতে সহপাঠীদের ঘটনাটি জানায়। তার সহপাঠীরা আরো জানায়, সিরাজুল ইসলাম স্যার বিষয়টি যেন ওই ছাত্রী কাউকে না বলে সেজন্য তাকে একশত টাকা দিতে চায়।

এ ব্যাপারে গমিরাহাট এস,সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এ বিষয়ে পুন্ট্রি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান নুরে এ কামাল এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকেও পাওয়া যায়নি।

ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও ওই ছাত্রীর দাদা জানায় , এ ঘটনার ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ বিচার চান তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি বিচারের আশ্বাস দিয়েছে। তাই আমরা অপেক্ষা করছি। বুধবার রাতেই এটি মিমাংসা না হলে আগামীকাল আমাদের ব্যবস্থা আমরা করবো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মন্জুরুল হক জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং তাদের আমি আমার কাছে আসার জন্য বলেছি। থানায় বলে রাখাছি তারা আসলেও যেন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। কিন্তুতারা আমার কাছে ও থানায় এখনো কোন অভিযোগ দাখিল করেনি।

-মোহাম্মাদ মানিক হোসেন