এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান আর নেই (ইন্না…রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২৬ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর ।

মাহফুজুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ছোটভাই শফিকুর রহমান খান। তিনি জানান, ভাইয়ের মরদেহ এখন হাসপাতালে আছে। শুক্রবার সকালে পুরান ঢাকার চকবাজারে শাহী মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিকাল ৩টায় তার প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে জানাজার পর বাদ মাগরিব দাফন করা হবে।

মাহফুজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৫ নভেম্বর রাতে তাকে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। তার অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় গুণী এই মানুষটিকে । বৃহস্পতিবার রাতে সেখানেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

মাহফুজুর রহমান খানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে শাহী মসজিদে শুক্রবার তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ নেয়া হবে তার প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে।

মাহফুজুর রহমান খান নিঃসন্তান ছিলেন। তার স্ত্রী ড. নিরাফাত আলম শিপ্রা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০০১ সালের ২৭ আগস্ট মারা যান। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মাহফুজুর রহমান খান ছিলেন সবার বড়।

মাহফুজুর রহমানের জন্ম ১৯৪৯ সালে ঢাকার লালবাগে। তার বাবা মরহুম হাকিম ইরতিজা-উর-রহমান খান ছিলেন ব্যবসায়ী। তার পৈতৃক বাড়ি লালবাগের চকবাজারের হাকিম হাবিবুর রহমান খান সড়কে। প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক এহতেশাম ও মুস্তাফিজ ছিলেন তার ফুফাতো ভাই।

মাহফুজুর রহমান খান ৯বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। চিত্রনায়ক রাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘অভিযান’ (১৯৮৪) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক বিভাগে মাহফুজুর রহমান খান প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।