চিকিৎসদের অনেকেই ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করেন। মৃত্যুর মুখ থেকে কত-শত রোগী প্রতি মুহূর্ত তারা বাঁচিয়ে থাকেন, ফলে তাদেরকে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করা অতি আবেগীয় একটা ব্যাপার হলেও মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর স্বজনদের কাছে এ তুলনা করা অস্বাভাবিক না।

কিন্তু সব চিকিৎসকই কি ঈশ্বরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন? বর্তমান সময়ে হাসপাতাল এবং দুই-তিন জায়গায় প্রাইভেট রোগী দেখার চাপে চিকিৎসকরা আর আগের সেই দরদ দিয়ে রোগী দেখেন না বলে একটা অভিযোগ কয়েক বছর যাবতই শোনা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাওয়া গেল এক রোগীর স্বজনের অভিযোগ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে আলোচনায় আসে সোনিয়া সাহা শান্তা নামের এক নারীর প্রতি ডাক্তারের অবহেলার খবর।

সোনিয়ার বড় বোনের দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট জ্বর ও মুখে ঘা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন সোনিয়া। ডেঙ্গুর মৌসুম চলায় তিনি ভেবেছিলেন, ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে বোধহয়। ডাক্তার রেজাউল করিম তাকে দেখতে এসে কোনো টেস্ট ছাড়াই meropenem injection এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেন।

এর পরপরই সোনিয়ার শরীরে আরও রেশ ওঠা শুরু করে সোনিয়া ভয় পেয়ে ব্যাপারটা ডিউটি ডাক্তারকে জানান, ডিউটি ডাক্তার, রেজাউল করিমের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে তাকে avil injection নামের আরও একটি ইনজেকশন দেন। ওই ইনজেকশন দেওয়ার পরে তার শরীরের রেশ কিছুটা কমে আসে, তারপর ওই দিন রাত ১১টায় ডা. রেজাউল করিম ডিউটি ডাক্তারকে কল করে বলেন Megacilin injection নামের আরেকটি ইনজেকশন পুশ করার জন্য।

একই রাত দুইটার দিকে সোনিয়ার পুরো শরীরে আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো ফোস্কা পড়ে দেখা দেয়। তারপর কুমিল্লা মেডিকেলের ডাক্তাররা তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে সোনিয়ার স্বজনদের বলেন তাকে ঢাকায় নিয়ে একজন ভালো স্কিনের ডাক্তার দেখানোর জন্য।

ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতালে একদিন ইবনেসিনা রাখার পর ওখান থেকেও বলা হয় যে এই রোগী এখানে চিকিৎসা হবে না। পরামর্শ দেওয়া হয় সোনিয়াকে অত্যাধুনিক কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করতে। সেখান থেকে আনা হয় স্কয়ার হাসপাতালে। দীর্ঘ ২২ দিন সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সোনিয়া বাড়িতে ফেরেন। এখনো তিনি আশঙ্কা মুক্ত নন।

সোনিয়ার বড় বোন তার ওই পোস্টটি লিখেছেন, ‘আমরা জানি সর্বশক্তিমান উপর আল্লাহর পর একজন চিকিৎসকই মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন। কিন্তু একজন বেখেয়ালি চিকিৎসকের কারণে যদি একজন রোগীর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে, তাহলে অসহায় মানুষ কার কাছে যাবে?’

আজকের পত্রিকা/সিফাত