চাল। ছবি : সংগৃহীত

চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।  ২২ মে বুধবার বিকেলে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়।

এনবিআর জানিয়েছে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাল আমদানি নিরূৎসাহিত করতে চালের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হলো। এনবিআরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষককে আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী বর্তমান শুল্ক হার ২৫ শতাংশ বহাল রেখে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এছাড়া ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। আজ বুধবার থেকে এই পরিপত্র কার্যকর হবে।

বর্তমানে চালের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ বহাল রেখে রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে চাল আমদানির ক্ষেত্রে মোট করভার ৫৫ শতাংশে উন্নীত হল।

এবার বোরোর ভালো ফলনের পর সরকারি পর্যায়ে ধান-চাল কেনা শুরু না হওয়ায় কৃষকরা ফড়িয়াদের কাছে বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এতে উৎপাদন খরচ না ওঠায় অসন্তোষ থেকে পাকা ধানে কৃষকের আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের রক্ষায় চাল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার সুপারিশ করেছিল খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১০ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির তথ্য জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এতে দেশীয় কৃষকগণ উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে চাল বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। যার ফলে প্রান্তিক কৃষকগণ আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকগণকে আর্থিক ক্ষতি হতে রক্ষাকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুশাসন অনুযায়ী আমরা আমদানি পর্যায়ে চালের উপর আমদানি শুল্ক-কর বৃদ্ধি করেছি।’

আজকের পত্রিকা/অধিদপ্তর/আ.স্ব