আটক পড়েছে বনলতাসহ ৫ ট্রেন

রাজশাহীর হলিদাগাছীতে তেলবাহী ট্রেনের ৮টি বগি লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি ট্রেন আটকা পড়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীতে পৌঁছাতে পারেনি আন্তনগর মধুমতি, সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর ট্রেনও।

এদিকে বুধবার রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছাতে না পারায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটের তিতুমীর এক্সপ্রেস, সকাল ৬টা ৫ মিনিটের সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, সকাল ৭টার বনলতা এক্সপ্রেস, সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সকাল ৮টার মধুমতি এক্সপ্রেসসহ কোনো ট্রেনই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেনি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খোন্দকার শহীদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকাল জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী থেকে সকল ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকেটের টাকা কাউন্টার থেকে ফেরত কিংবা টিকেট পরিবর্তন করে দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় মূষলধারে বৃষ্টির মধ্যে আটকে পরা বনলতা এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের হাজারো যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেই প্লাটফরমে নেমে অন্যত্র আশ্রয় নেন।

এদিকে, বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উক্ত কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃস্পতিবার সকালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহীদুল ইসলাম জানান, রাতে বৃষ্টি থামলে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলছিল। এরই মধ্যে রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেলপথ স্বাভাবিক করার জোর প্রচেষ্টাও চলছিল।

প্রসঙ্গত, বগি লাইনচ্যুতির পর রাজশাহীর সাথে ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় বুধবার রাতের ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস