নিখোঁজ জেলেদের বাড়িতে শোকের মাতম

বঙ্গোপসাগরে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বন্দরের একটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৬ জেলেকে ৪দিন ধরে এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারে চলছে শোকে আহাজারি । পরিবার ও পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর থেকে উদ্ধারে জন্য চেষ্টা চলছে ।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পূর্ব পাশে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ের কবলে পড়ে মাছ শিকারে যাওয়া পাড়েরহাট বন্দরের ট্রলার মালিক আলহাজ্ব ইকবাল হোসেনের এফবি আল সাত্তার নামে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ডুবে যাওয়া ট্রলারের ১৯ জন জেলের মধ্যে ১৩ জনকে পার্শ্ববর্তী অন্য ট্রলারের জেলেরা জীবিত উদ্ধার করে এবং অপর ৬ জেলেকে ৪ দিন ধরে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি।

এ ঘটনায় ইন্দুরকানী উপজেলার কালাইয়া গ্রামের মৃত হাবিব মল্লিকের ছেলে বাদশা মল্লিক ওরফে আলমগীর, নাজিরপুর উপজেলার শেখ মাটিয়া ইউনিয়নের মোঃ হারুন পশারির ছেলে মোঃ ফায়েক পশারি, একই এলাকার দলিল উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মোঃ মনির হাওলাদার, মোঃ আনোয়ার হোসেন, পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের সঞ্জয় নামের ৬ জেলে নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধাকৃত জেলেরা জানান, দুপুরে সময় হঠাৎ নিম্নচাপে বঙ্গোপসাগরে উত্তাল হওয়ার কারনে এ ঘটনা ঘটে।

আমরা সবাই ট্রলারে কেবিনে একই জায়গায় ঘুমে ছিলাম। আমরা উঠতে পারছি,তারা কি করছে তা বলতে পারিনা এবং তাদের কোন জায়গায় সন্ধান পাচ্ছি না ।

সরেজমিনে গেলে কালাইয়া গ্রামের নিখোজ বাদশা মল্লিকের স্বজনরা জানান, বাদশা মল্লিক ছিল একমাত্র সংসারের আয় করার লোক, আমাদের কিভাবে সংসার চলবে আমরা জানিনা। বাদশাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেও। ঐ গ্রামের বাদশা নিখোজের সংবাদ শুনে শত শত লোক কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে ।

এছাড়াও একই দিনে বঙ্গোপসাগরে এফবি পূর্নিমা নামের ট্রলারটি ডুবে যায়। নিখোজ ট্রলারের মালিক আলহাজ্ব ইকবাল জানান, নিখোজ ৬ জেলেদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে। নিখোজ জেলেদের পরিবারে কাছে আমরা থাকব । ২টি ট্রলার ডুবিতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মত ক্ষতি হয়েছে। ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনার কেন্দ্র করে পিরোজপুর সদর থানা একটি সাধারন ডায়রি করা হয়েছে।

মোঃ মারুফুল ইসলাম/ইন্দুরকানী