ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে পুলিশ। ছবি : ইন্টারনেট্

দুই বিয়ে করেছে মেয়েটির মা। সে তার মায়ের প্রথম স্বামীর সন্তান। বাসায় মা ও সৎবাবা শাহ আলমের সঙ্গে থাকতো। মেয়েটির সৎকাকা (শাহ আলমের ছোট ভাই) বিল্লাল হোসেন সম্প্রতি দেশে ফিরে কয়েক মাসের জন্য এই বাসায় ছিলেন। সে সময় তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কারণে সে গর্ভবতী হয়।

এরপর মা তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেয়। মেয়েটির প্রসব বেদনা ওঠলে সে টয়লেটে গিয়ে নিজেই সন্তান প্রসব করে।

নবজাতকটি পৃথিবীতে আসার ৩০ মিনিট পর তাকে টয়লেটের ভেন্টিলেটর দিয়ে পঞ্চমতলা থেকে বাইরে ফেলে দেয়া হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গেই নবজাতকের মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি রাজধানীর মিরপুর থানার রূপনগরের। একটি ভবনের পঞ্চমতলা থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতককে ফেলে দেয়া হয় ২৫ মে শনিবার। ওই ঘটনার পর আশপাশের ভবন তল্লাশি করে হত্যাকারী কিশোরী মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রূপনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ৪ জনের মধ্যে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে তাকে।

শনিবার রাতে কিশোরী মাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল রহস্য।

রূপনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিমল চন্দ্র বলেন, মেয়েটি নিজের বয়স ১৮ বলেছে। তবে বাবা-মায়ের দাবি তার বয়স ১৭ বছর ৬ মাস। এ বছর মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে।

কিশোরীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য পুলিশি হেফাজত থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এসআই পরিমল জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মেয়ের মা, সৎবাবা শাহ্ আলম ও সৎকাকা বিল্লাল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করা হলেও তার মা বর্তমানে গর্ভবতী এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের একটি ছোট ছেলে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে তিনি নজরদারিতে থাকবেন।

ওই নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস/জেবি