র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত ৫ জন। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাকরি দেওয়া হবে ও ব্যবসার পার্টনার করা হবে এমন আশ্বাস দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৬ মে রবিবার এ তথ্য জানায় র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং।

জানানো হয়, ২৫ মে শনিবার দিনগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

নাম বারেক সরকার হলেও বারেক হাজী নামেই সবার কাছে পরিচিত তিনি। ১৮ বছর বয়সে সৌদি আরব যাওয়ার পর দেশে ফিরে সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি। এ প্রতিষ্ঠানের নামে রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর ও মতিঝিলের বিভিন্ন এলাকায় অত্যাধুনিক অফিস ভাড়া নেয় এই চক্র। আধুনিক এই প্রতিষ্ঠানই ছিলো তার প্রতারণা সম্রাজ্য।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, ৪৩ বছর ধরে সে নিরবচ্ছিন্নভাবে যে ব্যবসা করে যাচ্ছে, এ পর্যন্ত সে বাধার সম্মুখীন হয়নি। তার চালচলন যেমন ভিআইপি ধরনের, তার প্রতারণার কৌশলগুলোও ভিআইপি ধরনের। দেশি কাউকে বিদেশি বেশে সাজিয়ে নিয়ে আসে, তাদের মাধ্যমে তাস খেলার একটা কৌশল অবলম্বন করে।

সরকারি বেসরকারি উচ্চপর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন কোম্পানির ভুয়া কাগজপত্র ও দলিল তৈরি করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে ৪৩ বছরে একশ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছিলো তারা।

র‌্যাব-৪ এর সিও চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, ভিকটিমকে বলা হয় আপনি ৩০ লাখ টাকা আনলেই এক কোটি টাকা পাবেন, ভিকটিম ৩০ লাখ টাকা যখনই শো করে, এরমধ্যেই তারা অফিস পরিবর্তন করে ফেলে। এ জাতীয় প্রতারণা যতগুলো আছে ঢাকা শহরে সবকিছুর তিনি হচ্ছে সম্রাট। এ পর্যন্ত আমরা শতাধিক কোটি টাকা প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছি। এই চক্রে জড়িতদের অন্য সদস্যদের দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে বলে জানায় র‌্যাব।

আজকের পত্রিকা/কেএফ/জেবি