উৎসবে জনশূন্য এই শহর কিসের ইঙ্গিত দেয়? সরকারি বেসরকারি সমস্ত অফিস এনে জড়ো করা হয়েছে এই ঠাস বুনোটের শহরে। ছবি : সংগৃহীত

এমন জনপ্রিয় গান আছে। যে গানে বলা হয়েছে, “ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে…” ঢাকা কি তবে কোনো মরীচিকা! দূরের মরু উদ্যান, সমুদ্র। আর কাছে গেলে শুধু বালু বালু?

এখন অফিস আসার সময় চোখে পড়লো জনশূন্য এক শহর। জ্যামের ‘জ ‘ ও কোথাও নেই। মানুষ বাড়ি ফিরছে। পত্রিকার ভাষায়, ‘নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ।’ তার মানে ঢাকার মানুষের নাড়ি পোতা গ্রামে। এই শহর যেন এক ইপিজেড। পয়সা কামানোর প্রমোদ নগরী। দায়বদ্ধতাহীন জনপদ।

উৎসবে জনশূন্য এই শহর কিসের ইঙ্গিত দেয়? সরকারি বেসরকারি সমস্ত অফিস এনে জড়ো করা হয়েছে এই ঠাস বুনোটের শহরে।

অথচ উৎসব বলতে স্বপ্ন দেখি জনমুখর এক ঘুমহীন শহরের। যেখানে মোড়ে মোড়ে কনসার্ট হবে। মানুষ মানুষের হাত ধরে হাটবে। পরিকল্পিত ভাবে হকাররা বসবে ফুটপাতে। শিশুরা বায়না করবে অভিভাবকদের কাছে। স্ট্রিট ফুডের গন্ধে পেট চনমন করবে।

আর বাস্তবতা হচ্ছে দুই ঈদে আমরা একটা ফাঁকা শহর উপহার পাই। যেখানে চা খেতে হলেও এক মাইল হাটতে হয়। ঈদের ছুটিতে একটা ভূঁতুড়ে শহরে রূপ নেয় ঢাকা।

শহরকে আপন না ভাবলে , শহরও আপনাকে আপন ভাববে না। ছবি : সংগৃহীত

এটা খুব বাজে নজির যেকোনো শহরের জন্য। এখনই বিকেন্দ্রিকরণ চাই। সব কাজের জন্য মানুষকে কেন ঢাকায় এসে থাকতে হবে! আর ঢাকায় জন্ম নেওয়া ছেলে হিসেবে বলতে চাই – আপনারা উৎসবে আমাদের পাশে থাকুন। প্রয়োজনে গ্রামের আত্মীয়-স্বজনদের ঈদে ঢাকায় নিয়ে আসুন। কতো বছর লাগবে এই শহরকে আপন করে নিতে আপনাদের?

ঈদে শুধু বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেই কেন ভিড় হবে। পুরো শহর জুড়েই তো উল্লাস হতে পারে। শহরকে আপন না ভাবলে , শহরও আপনাকে আপন ভাববে না। শহরকে জীবন্ত একটি স্বত্তা হিসেবে দেখতে চাই।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস