হাতির শুরের আক্রমনের শিকারের প্রতিকী ছবি। ছবি-সংগৃহীত

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাতি দিয়ে রাস্তাঘাট আর দোকানে চাঁদাবাজির ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু আশানুরূপ চাঁদা না পাওয়ায় কোনো হাতির শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে তুলে কাউকে আছাড় মারার ঘটনা বিরল। ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর উত্তরপাড়ার রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জের আগড়পুর উত্তরপাড়ায় দুপুরে রাস্তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি হাতি ইজিবাইক চালক বাতেনের কাছে চাঁদা চাইলে ৫ টাকা দেয় বাতেন। কিন্তু হাতিও তো টাকা চেনে। পাচ টাকা সে কিছুতেই নেবে না। হাতি ১০ টাকার নিচে টাকা নেয় না, জানায় মাহুত।

বাতেন ১০ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটি হয় মাহুতের সঙ্গে। এক পর্যায়ে বাতেন বাইক টেনে চলে যেতে চাইলে হাতি ক্ষিপ্ত হয়ে চালককে শুর দিয়ে পেচিয়ে গাড়ি থেকে টেনেহিচড়ে বের করে এনে শুন্যে কয়েকবার ঘুরিয়ে আছাড় মারে। এতে রাস্তায় এক বাড়ির দেয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়েন বাতেন।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতির চাঁদাবাজি ও তাণ্ডব চালানোর এ ঘটনায় মাহুত এনামুল হককে (১৪) আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। আর হাতিটিকে মালিকপক্ষের লোকজন এসে নিয়ে যায়। আহত চালক বাতেন আগরপুর এলাকার বাসিন্দা।

মাহুত এনামুল জানায়, তার বাড়ি গাজীপুর উপজেলার শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামে। ছয় দিন আগে সে হাতি নিয়ে বের হয়। হাতির মালিকের বাড়ি নরসিংদী। নাম কাজল মিয়া। কাজলের সঙ্গে তার চুক্তি হয়, হাতি নিয়ে সে টাকা সংগ্রহ করবে আর বিনিময়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাবে। টাকা কম দিলে কিংবা কেউ না দিলে বিষয়টি প্রশিক্ষিত হাতি বুঝতে পারে। সে ক্ষেত্রে হাতিটি মাঝেমধ্যে খেপে যায়।

জানা গেছে, একই কারণে হাতিটি এক সপ্তাহের ব্যবধানে নরসিংদীর বেলাব বাজারে দুজনকে শূন্যে ভাসিয়ে ছুড়ে মারে। জেলার নারায়ণপুর বাজারেও হাতির চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আহত হয় একজন।

আজকের পত্রিকা/মির