চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ফরম নিলেন নাছির, আলোচনায় ৪ হেভিওয়েট প্রার্থী

চট্টগ্রাম সিটি (চসিক) নির্বাচনের তফসিল আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারিঘোষণা করা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এমন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর সর্বত্রে এখন চলছে নির্বাচনী আমেজ। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। দল ও প্রার্থী নিয়ে বিশ্লেষণ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন এবং বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়েই কৌতূহল সবচেয়ে বেশি।

আজ ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে আ’লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান মেয়র আজম নাছির উদ্দিন।

চট্টগ্রাম মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দীনের হাতে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলে দেন দলের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নের বিষয়টি দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং শিরোধার্য।

গত সোমবার (১০ ফেব্রয়ারি) আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলর পদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে মেয়র পদে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৪ হেভিওয়েট প্রার্থী নগর আ’ লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি, খোরশেদ আলম সুজন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী। এছাড়া নুরুল ইসলাম বিএসসির বড় ছেলে মুজিবুর রহমান ও চউকের সাবেক চেয়ার‌ম্যান আবদুচ ছালামের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম। নুরুল ইসলাম ব্যবসার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

এদিকে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড ও নগর নেতৃত্বের একটি বড় অংশ চাইছে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের প্রার্থিতা। সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ও বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল অবশ্য এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। আবার নেত্রী চাইলে নির্বাচন করবেন, একইসঙ্গে চসিক মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে চমক থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

তবে হঠৎ মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় উঠে এসেছেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই রাজনীতিক, শিল্পপতি ও কলামিস্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি। আগেরবার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হলেও এখন সে দায়িত্বেও নেই তিনি। তবে দলের কেন্দ্রীয় ও নগর পর্যায়ে তার রয়েছে শক্ত অবস্থান।

জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম নিয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাইছি না। সময় আসলে দেখা যাবে।’

অন্যদিকে মেয়র পদে মনোনয়ন দৌড়ে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তার মেয়াদেই চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় বাজেটের (সবমিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা) ‍উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে চউক (সিডিএ)। জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প আলোর মুখ দেখে তার সময়কালেই। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তার সময়কালেই নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার।

এছাড়া বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ, সংস্কার-সম্প্রসারণ, নগরীর বিভিন্নস্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো মেয়াদজুড়েঁ নগরে আলোচনায় ছিলেন তিনি। সর্বশেষ চউক চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। সম্প্রতি নগরীর বিভিন্নস্থানে তার মেয়র প্রার্থিতার পোস্টারিংয়ের পর আরেকবার আলোচনায় উঠে আসে তার নাম।

তবে সব প্রার্থীই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার কেন্দ্রের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। সবার অপেক্ষা তাই কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া জানান, আগামী শনিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সূত্র জানায়, সদ্যসমাপ্ত ঢাকার দুই সিটির মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে বলে।

এম. মতিন, চট্টগ্রাম