পৌরসভার নিয়ম না মেনে রাস্তা দখল করে বাড়িতে প্রবেশের পথ আটকে ঘর নির্মাণ করায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে নারী উদ্যোক্তা পরিবারটির। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে নারী উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফাতেমা ও তার পরিবারের সদস্যরা। পৌরসভার নিয়মানুযায়ী বাড়িতে যাতায়াতের পথ খোলা রাখার দাবিতে পৌর মেয়রসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পায়নি ওই ভুক্তভোগি পরিবারটি।

সুবিচার পাওয়ার আশায় সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাগরিক অধিকার বি ত জান্নাতুল ফাতেমা।

রোববার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জান্নাতুল ফাতেমা এ অভিযোগ করেন। বক্তব্য উপস্থাপনের এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জান্নাতুল ফাতেমা জানান, বর্তমানে বাড়িতে প্রবেশের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। পাশেই বিটিসিএল (টিএন্ডটি) অফিসের চত্বর ঘুরে ওই অফিসের সীমানা প্রাচীরের ফোকর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের সময় বার বার বাধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে বিটিসিএল অফিসের প্রহরীদের দ্বারা।

নারী উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফাতেমা জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফেরার সময় ওই অফিসের মুল ফটক বন্ধ হয়ে গেলে সেই রাতে আর বাড়িতে ফেরা সম্ভব হয় না। কমপক্ষে ৮/১০ দিন, রাত ৯ টা পার হয়ে যাওয়ায় গেট বন্ধ থাকায় বাড়িতে ঢুকতে না পেরে অন্য আত্মীয়ের বাড়িতে রাত কাটাতে হয়েছে। যাতায়াতে এতটাই বিঘœ হয়েছে যে, ঘরে মজুদ থাকা খাবার শেষ হয়ে গেলে নতুন করে আর কোনো মালামাল নেওয়া সম্ভব না। এমনকি জ্বালানীর জন্য গ্যাসের সিলিন্ডার বাড়িতে নেওয়ারও পথ নাই। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বৃদ্ধা মা, সন্তান ও নাতী-নাতনীদের নিয়ে না খেয়ে ঘরের ভেতরেই মৃত্যু হবে আমাদের। এমনকি আমার বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহন বা কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তাকে বের করে আনারও কোনো রাস্তা নেই।

সম্মেলনে তিনি জানান, ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ওয়ারলেস পাড়ায় গত ২০০০ সালে ডা. বিশ্বনাথ রায় ও নিতিশ কুমার দত্তের কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি কেনেন ফাতেমা ও তার বোন খালেদা বেগম। জমি বিক্রেতার সাথে চুক্তি মোতাবেক যাতায়াতের রাস্তা রেখে ফরিদপুর পৌরসভা থেকে পাকা ভবন নির্মানের নকশার অনুমোদন নেওয়া হয় এবং ভবন নির্মানও শেষ হয়।

পরবর্তিতে বাড়ির সামনের ফাঁকা জমির মালিক শাহনাজ বাবু ও কবির হোসেন পৌরসভার নিয়মনীতি না মেনে নির্ধারিত ওই রাস্তা দখল করে টিনশেডের আধাপাকা ভবন নির্মান করেন। এ সময় রাস্তা রেখে ঘর নির্মানের জন্য বলা হলেও কর্ণপাত করেননি তারা। এ বিষয়ে পৌরসভার মেয়র, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মানকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের আত্মীয়-স্বজন হওয়ায় তারা বরাবরই আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যাচ্ছে।

পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের কথা চিন্তা করে এবং নাগরিক অধিকার ফিরিতে দিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন জান্নাতুল ফাতেমা।

-ইয়াকুব আলী তুহিন/ফরিদপুর