সড়কে অরাজকতা চলছেই । ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে চুক্তিভিত্তিক বাস পরিচালনা করছে বিভিন্ন বাস মালিকরা । চুক্তির টাকা আয় করতে সড়পথে বাসচালকরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা করছে। ফলে চাপা পরে নিহত ও আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের দুর্ভোগ দূর হচ্ছে না।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চুক্তিতে গাড়ি না চালানো সিদ্ধান্ত দেয় পরিবহন মালিক সমিতি। সিদ্ধান্তে বলা ছিল চুক্তিভিত্তিক বাস পরিচালনা করবে না। ৬ মাসেও সে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। এ কারনেই সড়কপথে বাসচালকদের প্রতিযোগিতা চলছে।

এ ভাবে বাসচালকরা চলতে থাকলে আগামীতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে পরিকল্পিত বাস নেটওয়ার্ক না গড়ে তোলা গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে এমটাই জানিয়েছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মোয়াজ্জেম হোসেন।

তিনি বলেছেন,‘সিঙ্গাপুর ও মুম্বাইয়ে রয়েছে পরিকল্পিত বাস নেটওয়ার্ক। এক রুটে চলাচল করে একটি কোম্পানির বাস। এজন্য এত বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা যায়’।

তিনি আরও বলেন, ‘বাসগুলোতে যাত্রীদের খুব বেশি ভিড়ও হয় না। অথচ ঢাকার বিভিন্ন বাসে যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ থাকে সবসময়ই। যাত্রীদের মধ্যেও বাসে ওঠার জন্য প্রতিযোগিতা লেগে যায়। অনেক যাত্রী নিয়মিতই দাঁড়িয়ে এমনকি দরজায় ঝুলেও যাতায়াত করেন।

 

নগরীর বাসচালকরা এভাবে অতিরিক্ত যাত্রী চুলছে। ছবি : সংগৃহীত

গত এক দশকে বাসে যাত্রী চলাচলের সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞ ড. মোয়াজ্জেম হোসেন।

এদিকে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘রাজধানীতে চুক্তিভিত্তিক বাস চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক মালিক চুক্তিতে বাস চালান। কারণ সিটি করপোরেশন পক্ষ থেকে রাজধানীর সড়কের পাশে বাস কাউন্টার স্থাপনে কথা ছিল। সড়কের পাশে কাউন্টার বসানোর সুযোগ না থাকায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি।

এ সমস্যা নিরসনের জন্য রাজধানীতে ছয় রঙের ছয়টি কোম্পানির বাস নামানোর জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। এই কমিটি আগামী দুই বছরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। কিন্তু কমিটির কাজের তেমন অগ্রগতি নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রাজধানীতে গত দশ বছরে ৪৪ হাজার ৬২টি বাস-মিনিবাসের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। ৩৩ হাজার ৪৭০টি বাস এবং ১০ হাজার ৫৯২টি মিনিবাস। বাস্তবে রাজধানীতে মাত্র ৬ হাজার নিবন্ধিত বাস-মিনিবাস চলাচল করে করে বলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়।

এসব বাস-মিনিবাস রাজধানীর ৩২৪ রুটে ১৩৭টি কোম্পানির নামে চলাচল করে। এদের মধ্যে শতাধিক বাস রয়েছে মাত্র সাতটি কোম্পানির। ৭৫টি কোম্পানির মালিকানায় ৫০টি কম সংখ্যক বাস। আর ৮৫০টি বাসের মালিক পৃথক পৃথক ব্যক্তি।

ফলে একই রুটে চলে বিভিন্ন কোম্পানির বাস। আবার কিছু রুটে ব্যক্তি-মালিকানার বিভিন্ন বাস-মিনিবাস চলাচল করে। ফলে প্রতিযোগিতা লেগেই আছে। একটি কোম্পানিতে একাধিক মালিকের বাস চলাচল করে। তাই দুর্ঘটনা কারণে কোম্পানির রুট পারমিট বাতিল হলেও বাস চলাচল বন্ধ হয় না।

আজকের পত্রিকা/আরবি/এমএইচএস