দীর্ঘ সাত বছর পর চলচ্চিত্রের শীর্ষ সংগঠনখ্যাত প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন কিছুদিন আগে সম্পন্ন হয়। এরপর এই সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি গত ২৪শে আগস্ট পরিচালক সমিতির সঙ্গে এক বৈঠক করেন। এই সভায় বর্তমান চলচ্চিত্র নির্মাণে যে সকল প্রতিবন্ধকতা ও অনিয়ম আছে তা চিহ্নিত করে এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই বিষয় নিয়ে সোমবার দুপুরে এফডিসির জহির রায়হান ভিআইপি প্রজেকশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রকাশ করা হয় নতুন নীতিমালা।

এবার একনজরে দেখে নিন চলচ্চিত্রের নির্মাণে নতুন নীতিমালায় যা যা থাকছে:

শুটিং টাইম: প্রতিদিন সকাল ১০ টায় অবশ্যই ক্যামেরা ওপেন (শুটিং শুরু) করতে হবে, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। এরমধ্যে যোহরের নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য একঘণ্টা বিরতি থাকবে।

কোনো শিল্পী কিংবা কুশলী যদি সময় মতো শুটিং সেটে না আসেন, তার জন্য যদি শুটিং শুরু না হয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয় সেই দায়-দায়িত্ব দেরিতে আসা শিল্পী বা কুশলীকে বহন করতে হবে। শিল্পী আসার পরেও সময়মতো শুটিং শুরু করতে না পারলে তার দায় নিতে হবে পরিচালককে।

সকাল ১০ টায় ক্যামেরা ওপেনের পর কোন শিল্পী কখন আসবে সে সময় নির্ধারণ করবেন পরিচালক।

শুটিং কল টাইম: শুটিংয়ে কল টাইম থাকবে সকাল ৮টায়। তবে শিল্পীদের প্রয়োজনে কল টাইম নির্ধারণ করে দিবেন পরিচালক।

চুক্তিস্বাক্ষর: শিল্পী ও কুশলীদের অবশ্যই প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর করতে হবে। চুক্তির সময় প্রথম কিস্তি ২৫ শতাংশ, পরবর্তী কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বাকি ৭৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হবে। মোট তিন কিস্তিতে পারিশ্রমিক পরিশোধ করা যাবে। কোনোভাবেই এককালীন পারিশ্রমিক প্রদান গ্রহণযোগ্য হবে না।

কনভেন্স: এক লাখ টাকার উপরে যাদের পারিশ্রমিক তারা কোনো প্রকার কনভেন্স (যাতায়াত ভাতা) পাবেন না।

আউটডোরে শুটিং: যেসব কলাকুশলী দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে পারিশ্রমিক পান, তারা আউটডোরেও সেই পরিমাণ পারিশ্রমিক পাবেন। আউটডোরে শুটিং চলাকালীন সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহকরা কনভেন্সের অর্ধেক হাত খরচ পাবেন।

কস্টিউম/ড্রেস (পোশাক): ড্রেসের জন্য কোনো শিল্পীকে আলাদা কোনো টাকা প্রদান করা হবে না। গল্পের প্রয়োজনে শিল্পীদের ড্রেস প্রোডাকশন থেকে তৈরি হবে, শুটিং শেষে সকল ড্রেস শিল্পীকে প্রোডাকশনের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনো ড্রেস কোনো শিল্পীর পছন্দ হলে সেটা ক্রয়মূল্য দিয়ে শিল্পী শুটিং শেষে নিতে পারবেন।

চলচ্চিত্রের প্রমোশন: চলচ্চিত্র মুক্তির আগে প্রমোশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ (প্রধান) শিল্পীদের কমপক্ষে ৫ দিন শিডিউল দিতে হবে।

শিল্পীদের সহকারী: নায়ক, নায়িকা, ভিলেন (প্রধান চরিত্র) যারা কাজ করেন তারা একজন করে সহকারী সঙ্গে নিতে পারবেন। যেটির ব্যয় প্রোডাকশন বহন করবে। অতিরিক্ত কেউ থাকলে তাদের ব্যয়ভার প্রোডাকশন বহন করবে না।

চলচ্চিত্র নির্মাণে এই নীতিমালা আগামি ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে জানান প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাসমুল আলম। তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের এই নতুন নীতিমালা যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় তবে প্রতিটি চলচ্চিত্র থেকে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় কমে যাবে।

চলচ্চিত্র নির্মাণের এই নতুন নীতিমালা পর্যবেক্ষণ করার জন্য গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের মনিটরিং কমিটি। আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন শামসুল আলম, এবং সদস্য সচিব বদিউল আলম খোকন। অন্যান্য সদস্যরা হলেন জায়েদ খান, আবদুল লতিফ বাচ্চু, আবু মুসা দেবু, সোহানুর রহমান সোহান, এমডি ইকবাল, আলিম উল্লাহ্‌, আসাদুজ্জামান মজনু, কবিরুল ইসলাম রানা, সুব্রুত।