পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে ভবিষ্যতের জন্য একসাথে হাটতে হবে পুরো চলচ্চিত্র পরিবারকে। ছবি : ডেইলি স্টার

চলচ্চিত্র শূন্য হচ্ছে দেশ। একের পর এক হল বন্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি আগামী ১২ এপ্রিল থেকে দেশের ১৭৪টি প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই শিল্পের এই দুর্দশা নিয়ে আজকের পত্রিকা কথা বলেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে।

মুশফিকুর রহমান গুলজার, সভাপতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি
আশা করছি হল মালিকরা হল বন্ধ করবেন না। মালিক সমিতির সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছে এমন কিছুই করবেন না। যারা ভারতীয় সিনেমা বাংলাদেশে আনতে চায় তাদের চক্রান্তে পড়ে তারা এই কাজটি করেছে। যারা হল বন্ধের সাথে জড়িত তারা সিনেমা বা হল সংশ্লিষ্ট কেউ না। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার এবং সরকারকে ভুল বোঝানোর জন্য তারা এই কাজটি করতে চেয়েছে।

বাদল খন্দকার, চলচ্চিত্র পরিচালক
সিনেমা হল বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। অনেক ভালো ভালো সিনেমা হয়েছে, আমরা বানিয়েছি। আমরা যখন সিনেমা বানিয়েছি তখন এত ভালো টেকনোলজি ছিল না তবুও ভালো সিনেমা তৈরি করেছি। কিন্তু এখন এতো ভালো টেকনোলজি নিয়েও ভালো সিনেমা বানতে পারছিনা কেন? সিনেমা হলের মালিকরা একটি সমস্যায় আছেন। তাদের সমস্যাটা শুনে সমাধান করতে হবে। মালিকদের একটি সমস্যা আছে সেটা হলো তারা অন্য ভাষার সিনেমা আনতে চায়। তাহলে ভাষা আন্দোলন করলাম কেন? পাকিস্তান আমলে লাইলি মজনু সিনেমা চলেছে। মানুষকে তিন ঘন্টা আটকে রাখার জন্য নিজের মতো করে সিনেমা বানালে হবে না। সিনেমা বানাতে হবে দর্শকদের ইচ্ছে মতো। তাহলে সিনেমা দেখতে মানুষ আবার হলে আসবে।

দেবাশীষ বিশ্বাস, চলচ্চিত্র পরিচালক ও উপস্থাপক
সিনেমা হল বন্ধ হলে সবারই ক্ষতি। তার চেয়ে ভালো আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা। আমরা যারা নির্মাতারা আমাদের পক্ষ থেকে দর্শকদের হলে ফেরাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তাদেরও উচিৎ হলগুলোর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। গুদাম টাইপের হলে এখন আর দর্শকরা সিনেমা দেখতে যাবে কেন? যারা সিনেমার উন্নয়নের জন্য চিন্তা করেন তারা কখনোই হল বন্ধের উদ্যোগ বা উৎসাহ দেবেন না। যারা অন্য দেশের সিনেমা দেশের হলগুলোতে মুক্তি দেওয়ার কথা বলছে তাদের জন্য বলবো, ‘শিকারি’, ‘বাদশা দ্য ডন’ সিনেমাগুলো কিন্তু দুই দেশের যৌথ প্রযোজনার সিনেমা। যৌথ প্রযোজনার বাকি সিনেমাগুলো কিন্তু ব্যবসা করতে পারেনি। তাই বলতে চাই, শুধু শুধু অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে সবাই মিলে কাজ করলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন হবে নয়তো হিতের বিপরীত হবে।

জায়েদ খান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ও চিত্রনায়ক
সিনেমা হল তারা কীভাবে বন্ধ করবে আমি বুঝি না। আচ্ছা হল যদি বন্ধ করবেন তাহলে ঈদের সিনেমার জন্য বুকিং দিচ্ছেন কেন? তাদের মধ্যে কিছু মানুষ চায় ভারতীয় সিনেমাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন সিনেমা বাংলাদেশে এসে এদেশের সংস্কৃতিকে নষ্ট করতে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিষেধ করে গেছেন নিজস্ব সংস্কৃতি ছাড়া উপমহাদেশের কোনো ছবি এদেশে যেন প্রদর্শিত না হয়।

চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেতা
হল বন্ধ হলে সবারই ক্ষতি হবে। শুধু হল মালিকদের নয়। সিনেমার উন্নয়নের জন্য সবার এগিয়ে আসতে হবে। আর এই জন্য আলোচনা করতে হবে। আলোচনার পথ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকারের সাথে হল মালিক, পরিচালক, প্রযোজক এবং সংগঠনগুলোর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করতে হবে। সরকার সবদিকের নজরই রাখেন, আমাদের কাজ হলো সরকারের কাছে ভালো-মন্দ দিকগুলো ভালোভাবে উপস্থাপন করা।

আজকের পত্রিকা/এসএ/এমএইচএস