মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদের লোগো। ছবি: বিএফএ

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান প্রদানে নীতিমালা লঙ্ঘন, অনিয়ম ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জারিকৃত ৩টি প্রজ্ঞাপণ স্থগিত এবং ২০১৮-২০১৯ এ অনুদানের আবেদনে জমা হওয়া সকল পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রস্তাবসমূহ পুনঃনিরীক্ষণের জন্য উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন ৪ জন সংক্ষুব্ধ চলচ্চিত্রকার ও চলচ্চিত্রকর্মী।

বাংলাদেশে নান্দনিক, সৎ ও শিল্পধর্মী চলচ্চিত্রের নির্মাণচর্চাকে উৎসাহিত করতে চলচ্চিত্র সংসদকর্মীদের দাবির মুখে চলচ্চিত্র অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৭৬-৭৭ সালে। শুরু থেকেই চলচ্চিত্র অনুদান বাংলাদেশে সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণপ্রবাহকে উৎসাহিত করেছিল। যে কারণে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র চিন্তার চলচ্চিত্রকর্মীদের চলচ্চিত্র নির্মাণের ভাবনায় সরকারি
এই অনুদান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা হিসেবে বিবেচিত হত। সরকারি এই অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া ধারবাহিক ছিল না। নানা কারণে এই প্রক্রিয়া বিভিন্ন সময়ে বন্ধ ছিল।

২০১০ সাল থেকে অনুদান প্রদানের এই প্রক্রিয়া ধারবাহিক হয়েছে এবং অনুদানে চলচ্চিত্র নির্মাণের অর্থের পরিমাণও কয়েক ধাপে বাড়ানো হয়েছে। ফলে দেশের বর্তমান বহু তরুণ ও জেষ্ঠ্য চলচ্চিত্রকারগণ পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রতিবছর অনুদানের আবেদন করেন।

আবেদনের সাথে সকলেই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালায় বর্ণিত প্রক্রিয়ায় তাদের চিত্রনাট্যসহ আবেদনের প্যাকেজ প্রস্তাব জমা দেন।

জমাকৃত প্যাকেজ প্রস্তাবগুলো পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য এই দুই নীতিমালার আলোকে গঠিত বাছাই কমিটি ও অনুদান কমিটির আলোকে তথ্য মন্ত্রণালয় অনুদান প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে প্রায় প্রতিবছর অনুদান প্রদানের বিষয়ে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

আমরা লক্ষ্য করেছি ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের চলচ্চিত্রে অনুদান প্রদানে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ সকল সীমা ছাড়িয়েছে। আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রাপ্ত নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে অনুদান
প্রদানের প্রক্রিয়ায় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান প্রদান নীতিমালা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান প্রদান নীতিমালার বহু নিয়ম লঙ্ঘন করে এ বছর ৩টি প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে মোট ১৪টি চলচ্চিত্রকে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই যথার্থ নয় বলে আমরা মনে করি।

এমতাবস্থায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদানের জন্য আবেদনকারী চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদানের জন্য আবেদনকারী চলচ্চিত্র নির্মাতা অদ্রি হৃদয়েশ ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সুপিন বর্মন এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা খন্দকার সুমন অনুদান নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৩টি প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে মোট ১৪টি চলচ্চিত্রের অনুদানের ঘোষণা স্থগিত ও জমাকৃত সকল চলচ্চিত্র নির্মাণ প্যাকেজ প্রস্তাব পুনঃনিরীক্ষণের জন্য গত ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন।

রিট আবেদনটির ফাইল নাম্বার ৭৭৩৪/২০১৯। রিট আবেদনটি আগামী রবিবার (২৮ জুলাই ২০১৯) ২৫ এনেক্স কোর্টে শুনানীর জন্য অপেক্ষমাণ।

রিট আবেদনকারীগণের পক্ষে আইনী সহায়তা প্রদান করছেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম।

আজকের পত্রিকা/এমইউ