নিহত মনির মাঝি।

বৈরি আবহাওয়া ফলে ঝড়ের তান্ডবে মেঘনা বঙ্গোপসাগর মোহনা থেকে চরফ্যাশনে উপজেলার দু’টি জেলে ট্রলার ২৯জেলে ট্রলার নিযে ডুবির ঘটনার ৫দিন পর ৭ জেলেকে উদ্ধার করেছে কক্সবাজার পুলিশ। তার মধ্যে ২জন জীবিত ও ৫জন মৃত লাশ পাওয়া গেছে।

বুধবার ভোরে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের সিয়াল ট্যাক পয়েন্টে স্থানীরা লাশ ভাঁসতে দেখে কক্সবাজার থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনির মাঝি (৩০)ও তার নৌকার ভাগি (জেলে) জুয়েল (৩০) কে জীবিত, ৫জন মৃত এবং একটি খালি জেলে ট্রলার বাসতে দেখে।

পুলিশ জীবিতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। জীবিতরা হলেন মাদ্রাজ উনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মুকুল সর্দারের ছেলে মনির মাঝি(৩৭) ও একই ওয়ার্ডের ট্রলার মালিক ওয়াজেদ আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল (২৭)।

তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ৫জনের মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে আছে তবে মৃতদের লাশ বিকৃত হওয়ায় প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান কক্সবাজরের স্থানীয় বাসিন্দা ও আইচক্রিম ফেক্টরির মালিক মোঃ মাসুদ।

কক্সবাজার পুলিশ জীবি দের তথ্যমতে এবং মৃতদের ছবি ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসনকে দেয়। এদিকে চরফ্যাশনের স্থানীয় প্রশাসন স্বজনদেরকে দেখালে জীবিত এবং মৃতদেরকে সনাত্মক করতে স্বক্ষম হয়। এদের মধ্যে মৃত জেলে-বাবুল ও মো. কামালের বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ গ্রামে, অলি উল্যাহ, মাকসুদ ও অজিউল্যাহ বাড়ি জিন্নাগড় গ্রামে।

চর মাদ্রাজ গ্রামের মনির মাঝির ট্রলারের মালিক ওয়াজেদ আলী বলেন, মনির মাঝির নেতৃত্বে সাগরে মাছ শিকার করতে যাওয়া ১৫জেলের মধ্যে মনির মাঝিসহ ১২ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন, মোঃ মনির মাঝি (৩০), মোঃ জুয়েল (৩০), জিহাদ হোসেন (২৫), মাকসুদ (২৮), সেলিম (৩২), বাবুল (৩৫), অলিউদ্দিন (২৭), বেলায়েত হোসেন (৩১), অজিউল্লা (২৭), কামাল (২৬), জাহাঙ্গির (৩৪) এবং তছির (৩৩)।

চরফ্যাশন পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাগর থেকে ফিরে আসা খলিল মাঝি বলেন, বঙ্গোপসাগরে বহু জেলে ট্রলার ডুবে গেছে। দুর থেকে ডুবে যাওয়া দেখে আমরা দ্রুত কিনার চলে আসি। স্বজনদের কান্না যেন থামছে না। অপরদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া মনির মাঝির ট্রলার মালিক ওয়াজেদ আলী বলেন, আমরা মনির মাঝির জীবিত এবং আরো লাশের সন্ধান পেয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়া হয়েছি।

চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সামসূল আরেফীন বলেন, ৭জন জেলের মধ্যে ২জন জীবিত এবং ৫জন মৃত লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে। চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন জানান, জীবিতদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে।

তিনি আরো জানান, আহমেদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের শাজাহান মাঝির নেতৃত্বে যাওয়া ১৪ জেলের সন্ধান এখন চলছে। কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ-বাহিনীসহ স্থানীয় জেলেরা নদী ও সাগরে সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাগর ও নদীতে জেলেদের প্রত্যেককে লাইফ জ্যাকেট ও পৃথক পৃথক জেলেদের জন্য ভয়া ছাড়া কোন জেলে নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারবে না। এ ব্যপারে উপজেলা পরিষদের জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নৌ-বাহিনী, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে নির্দেশনা দেয়া আছে কোন জেলে এই নির্দেশ অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারে গেলে তাকে আটক করা হবে।

উল্লেখ্য, ৬ জুলাই সকালে চরফ্যাশন উপজেলার মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ মৎস্যঘাট থেকে মেঘনার সাগর মোহনায় ভোর ৬টায় মনির মাঝির ১টি ট্রলার ও নুরাবাদ ইউনিয়নের শাজাহান মাঝির দু’টি ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গেলে ঝড়ের কবলে পরে। স্বজনেরা তাদের মোবাইল ফোনে না পেয়ে হতাশা দিনগুনছে। লাশের সন্ধানের খবর পেয়ে পরিবারের মধ্যে শোকের মাতম বইছে।

এম আমির হোসেন/চরফ্যাশন