কমল দাশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

ওয়াটার বাস।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের যাত্রীদের সুবিধার্থে ওয়াটারবাস নির্মাণ করছে ড্রাইডক নামক একটি জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। নির্মাণ কাজ শেষ হলে মহানগরীর সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত ওয়াটারবাস সার্ভিস আগামী মার্চ মাস থেকে চালু হতে পারে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের যানজটের দূর্ভোগ এড়াতে এই বাস সেবা চালু করছে সরকার।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে বিমান যাত্রীদের সুবিধার্থে ওয়াটারবাস চালু হলে সময় এবং অর্থ দুটোরই সাশ্রয় হবে এমনটি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাথমিকভাবে ৩০ আসনের দুই জোড়া দ্রুতগতির ওয়াটারবাস নামানোর কথা রয়েছে। ফ্লাইটের সময়সূচির সাথে সমন্বয় করে ওয়াটারবাস সার্ভিস চালু করা হবে। বিশেষ করে বন্দরকেন্দ্রিক যানজট এড়াতে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষে সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত ওয়াটারবাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। ওয়াটারবাস নির্মাণের জন্য চিটাগাং ড্রাইডককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এসএস ট্রেডিং-এর সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিমতলী থেকে বিমানবন্দর যাওয়ার মূল সড়ক একটি হওয়ায় যানজট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এ মুহূর্তে কঠিন। বে-টার্মিনাল নির্মাণের আগে বন্দরমুখী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি চলাচল কমানো সম্ভব নয়। তাই ওয়াটারবাস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ৩০ আসনের দুই জোড়া দ্রুতগতির ওয়াটারবাস নামানো হবে। চাহিদার সাথে সাথে সার্ভিস বাড়ানো হবে। ফ্লাইটের সময়সূচির সাথে সমন্বয় করে ওয়াটারবাস সার্ভিস চলবে। ইতোমধ্যে সদরঘাটের সী-রিসোর্সেস কোম্পানির পূর্বপাশে যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনাল (পল্টুন-জেটি) নির্মাণের কাজ চলছে।

বন্দরসচিব ওমর ফারুক জানান, সদরঘাট থেকে যাত্রীরা লাগেজসহ ওয়াটারবাসে চড়বেন। পতেঙ্গায় বিমানবন্দরের কাছে নদীতে পল্টুন স্থাপন করা হচ্ছে। সেখানেই বিমানযাত্রীদের চেকইন করা হবে। যাত্রীদের লাগেজ সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট কোম্পানির ভ্যানে চলে যাবে। যাত্রীদের সেখান থেকে মিনিবাসের মাধ্যমে বিমানবন্দরে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে করে যাত্রীদের ঘাট থেকে লাগেজ নিয়ে টানাটানি করতে হবে না।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, চট্টগ্রামে বিকল্প গণপরিবহনের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও পরিচালনা প্রতিষ্ঠান আন্তরিক না হলে মুখ থুবড়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নৌ-পরিবহনটিও। আর ট্রাফিক পুলিশ বলছে, ওয়াটার বাসের মতো প্রকল্পের সুফল পাবে নগরবাসী। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, বন্দর, কাস্টমস, ইপিজেডসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই একটি সড়কের ওপর নির্ভরশীল। তাই যানজট যেন নিত্যদিনের ভোগান্তি এই সড়কের যাত্রীদের। এর ওপর চলতি মাসেই এখানে শুরু হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। তাই যানবাহনের চাপ কমাতে না পারলে স্থবির হয়ে যাবে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসএস ট্রেডিং-এর ম্যানেজিং পার্টনার হচ্ছে আমার ছেলে সাদাত হোসেন। সে লন্ডনে পড়াশোনার সূত্রে ওয়াটারবাসের ধারণাটি এখানে এনেছে। এরপর বিষয়টি আমরা উত্থাপন করলে উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা নিয়ে কাজটি শুরু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই জোড়া ওয়াটারবাস তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চের আগে ওয়াটারবাস চালু করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে বলেছি। আশা করি, বন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের সুফল পাবে চট্টগ্রামের মানুষ। ওয়াটারবাস চালু হলে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া যাবে। আমরা দ্রুতগতি সম্পন্ন চারটি ওয়াটারবাস নির্মাণ করছি। ৩০জন যাত্রীর ধারণক্ষমতার চারটি বাস দিয়ে সার্ভিসটি শুরু করতে চাই। চারটি ওয়াটারবাস তৈরিতে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান ওয়েস্টার্ন মেরিনের এ কর্ণধার।

এদিকে ওয়াটারবাস চালু হলে সময় এবং অর্থ দুটোরই সাশ্রয় হবে এমনটি উল্লেখ করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, পতেঙ্গা, বন্দর থানা এলাকায় যানজটের কারণে বর্তমানে ফ্লাইটের যাত্রীদের চট্টগ্রাম শহর থেকে তিন ঘণ্টা আগে রওনা দিতে হয়। তাই সদরঘাট থেকে ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত ওয়াটারবাস চালু করা হচ্ছে।