চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল হুদার নামে প্রতিমাসে কোটি টাকা চাঁদা তোলেন কথিত ক্যাশিয়ার সুলতান।

থানার কথিত ক্যাশিয়ার সুলতানের বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনায় হতবাক ওসি ও এসআইসহ থানা পুলিশ সদস্যরা।

অভিযোগ উঠেছে ক্যাশিয়ার সুলতানের বিরুদ্ধে ইপিজেড এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক, ইয়াবা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হোটেল, পতিতালয়, জুয়ার আসর, অবৈধ পরিবহন, স্বর্ণ চোরাকারবারী, চোরাই তেল পাচারকারী, বিউটি পার্টলারের আড়ালে দেহ ব্যবসা, ফুটপাত, ভাসমান হকার, অন্যায়ভাবে মামলা দেয়া, আসামি ধরা, থানা থেকে আসামিকে ছাড়ানোর সবকিছুই হয় ক্যাশিয়ার সুলতানের কারিশমায়।

আর এসব কথা বলে ইপিজেড এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ক্যাশিয়ার সুলতান মাসে কোটি টাকার চাঁদা আদায় করছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ক্রাইম জোন, টাকার বিনিময়ে এলাকার লোকজনকে গ্রেফতার করে নির্যাতন, সাধারণ মানুষকে হয়রানীসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে সুলতানের বিরুদ্ধে।

এলাকার ভুক্তভোগীরা সুলতানের বিরুদ্ধে থানা ও পুলিশ কমিশানারের কাছে অভিযোগ করলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তার বিরুদ্ধে ওসিও কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

এব্যপারে চিংড়ি পোনা বিক্রেতা শাহজাহান, ঈশা খাঁ গেইট এলাকার চোরাই তেল বিক্রেতা নুরুল আলম ও আবু তাহের ক্যাশিয়ার সুলতানকে চাঁদা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

শাহজাহান চিংড়ি পোনা বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় মাসোহারা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও চোরাই তেলের ব্যবসার কথা অস্বীকার করেন নুরুল আলম ।

এ ছাড়া নগরীর মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা বিক্রেতা বাদশা, আবদুর রহিম, জাভেদ, মনির, ইয়াকুবসহ ২৮/৩০ জনকে দিয়ে ক্যাশিয়ার সুলতান নিজেই মাদক ইয়াবার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে পুলিশের কথা বলে ৫০ থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত মাসোহারা নেয়।

এদিকে থানার ক্যাশিয়ার হিসেবে সুলতান থাকলেও সুলতানের নিজস্ব কিছু নিয়োগপ্রাপ্ত মনিরসহ কয়েকজন ক্যাশিয়ার রয়েছে। তারা সোলতানের হয়ে এলাকা ভিত্তিক চাঁদা আদায় করে।

এব্যাপারে জানার জন্যে ফোনে সোলতানের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেকে দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল জানান, আমি একজন সচেতন মানুষ হিসেবে সবসময় অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি, পুলিশের নামে চাঁদাবাজির বিষয়টি দলীয় ফোরামেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ব্যারিষ্টার সুলতান আহমেদ চৌধুরী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এম আনচার উল্লাহ বলেন, সুলতানের চাঁদাবাজির বিষয়টি ওসিকে একাধিকবার জানানো হয়েছে এরপরও ওসি কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল হুদা বলেন, ক্যাশিয়ার সুলতানের বিষয়ে এলাকার অনেক লোকজন অভিযোগ করছে।

তবে থানার কোন কাজে সুলতানকে সম্পৃক্ত না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

-এম. মতিন, চট্টগ্রাম