জরুরি উদ্ধারকারী দল নৌযান ও হেলিকপ্টারে করে মানুষকে বাড়ির ছাদ ও গাছের ডাল থেকে উদ্ধার করছে। ছবি : সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় ইদাইয়ের আঘাতে মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে ১৯ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রেডক্রস জানিয়েছে, সাইক্লোনে মোজাম্বিকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ও প্রধান বন্দর বেইরার ৯০ শতাংশ ক্ষতি বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে ৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন।

বিধ্বস্ত শহরটিতে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর ১৯ মার্চ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নিউসি বলেন, এই ঝড়ের আঘাতে ২০২ জন নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন এবং প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার জন ঝুঁকিতে আছেন। সরকার জরুরি অবস্থা ও তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করছে।

প্রেসিডেন্ট নিউসি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আসন্ন দিনগুলোতে প্রায় ৮ মিটার দীর্ঘ ঢেউ আঘাত হানতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ ব্রিফিং শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জুলাই মোয়ো বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের পূর্বাঞ্চলে এই ঝড়ের আঘাতে প্রায় ১০০ জন মারা গেছেন। এই সংখ্যা বেড়ে তিনশ’তে দাঁড়াতে পারে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় আঘাত হেনেছে। এতে মালাওইতেও মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। সেখানে প্রায় ১০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৮০ হাজার মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, তারা প্রায় ৬ লাখ মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা যোগাড় করছে।

ঘূর্ণিঝড় ইদাইয়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মোজাম্বিকের মধ্যাঞ্চলে বন্যায় অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল নৌযান ও হেলিকপ্টারে করে মানুষকে বাড়ির ছাদ ও গাছের ডাল থেকে উদ্ধার করছে। মোজাম্বিক ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিমানবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েছে।

এনজিও সংস্থা রেসকিউ সাউথ আফ্রিকা জানিয়েছে, তিনটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে ১৫ মার্চ শুক্রবার রাত থেকে তারা ৩৪ জনকে উদ্ধার করেছে। রেসকিউ এসএ’র আবরিয়া সেনেকাল বলেন, ‘আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে এটাই একমাত্র উপায়। এনজিওটি আরো হেলিকপ্টার ভাড়া করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

ইয়ান বলেন, ‘আমরা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে শুধু কিছু মানুষকে বাঁচাতে পারব, অন্যান্যরা মারা যাবে। ইতোমধ্যে ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।’ নামাতান্ডায় ২৭ বছর বয়সী জোসে বাতিও জানান, তার স্ত্রী ও সন্তানরা ছাদে উঠে নিজেদের প্রাণ রক্ষা করেছেন। তারা প্রাণে রক্ষা পেলেও তাদের অনেক প্রতিবেশী বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/সিফাত/জেবি