নারায়নগঞ্জে ফুলের গ্রাম সাবদি। ছবি: সংগৃহীত

কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু অবসর পেলে আমরা অনেকেই দিনে গিয়ে দিনে ঘুরে আসা যায় এমন স্পট খুঁজি। জীবনের একঘেয়েমিতা থেকে ভ্রমণ মুক্তি দিতে পারলেও, আমাদের সময় ও ভ্রমণযোগ্য জায়গা সম্পর্কে জানার অভাবে ঘোরাঘুরি করা সম্ভব হয় না। কিন্তু দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে ভ্রমণ খুবই জরুরি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি গ্রামের নাম সাবদি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের পরিচিত ও কাছেপিঠে ঘুরতে যাওয়ার মতো একটি জায়গা এটি। সাবদি গ্রামে শীতকাল এলে সরিষার চাষ করা হয়। সরিষার চাষ মানেই হলুদ রঙের সরিষা ফুল দিয়ে ক্ষেতগুলো হলুদে ভরে ওঠে। ভ্রমণপ্রিয় আর ছবি তুলতে পছন্দ করা মানুষদের জন্য সাবদি খুবই সুন্দর একটি জায়গা।

সাবদি গ্রামের চারদিকের চারদিকের ফুল ক্ষেতগুলোর সৌন্দর্য মুগ্ধ করে মানুষকে। ছবি: সংগৃহীত

শীতকালে এখানে সরিষার চাষ হলেও ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে এখানে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করা শুরু হয়। নানা ধরনের রঙিন ফুলে ছেয়ে যায় ক্ষেতগুলো। ফুলচাষিদের কখনো দেখতে পাওয়া যায় ফুল তুলতে। বিকেলের দিকে সাবদির ক্ষেতগুলো দেখতে খুব সুন্দর লাগে। চারদিকের ফুল ক্ষেতগুলোর সৌন্দর্য মুগ্ধ করে মানুষকে।

সাবদি গ্রামে প্রেমতলা, লক্ষ্মণবন্দে নদীর পাড়, অনায়াসেই এক বিকাল আড্ডা দিয়ে কাটানো যাবে। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়া এমনি একটি গ্রাম সাবদি, যা কি না ফুলের গ্রাম সাবদি বলে এলাকার মানুষজন জানে। এখানে গেলে যে শুধু গ্রাম আর ফুলের বাগান দেখা হবে তা কিন্তু নয়, এর সবচেয়ে অসাধারণ হলো প্রেমতলা, লক্ষ্মণবন্দে নদীর পাড়, অনায়াসেই এক বিকাল আড্ডা দিয়ে কাটানো যাবে। চাইলে নদীতে নেমে ঝাপাঝাপি করে নিজেকে শীতল করে নিতে পারেন। মন চাইলে কিছুটা সময় নৌকায় ঘুরতে পারেন। আর কিছু বড় বড় দরগাহ দেখা হবে তার মধ্যে অন্যতম কদম রসুল দরগা। খুবই সুসজ্জিত ছিল সিরাজ শাহর মাজার কমপ্লেক্সটি। তা ছাড়াও আছে সোনা কান্দা দুর্গ। এ সবই দেখতে হলে নদী পার হয়ে যেতে হবে। নদীর এই পারে দেখার মতো রয়েছে বিবি মরিয়ম এর মাজার ও হাজীগঞ্জ জল দুর্গ।

যেভাবে যাবেন

গুলিস্থান জিপিও থেকে নারায়ণগঞ্জগামী নন এসি উৎসব বা বন্ধন এ ৩৬ টাকা বা এসি বিআরটিসি তে ৪৮ টাকা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ গিয়ে একদম শেষ মাথায় বন্দরের কাছে গিয়ে নামবেন। এরপর ২ টাকায় ইঞ্জিন নৌকায় বা ৫ টাকায় বইঠা নৌকায় পার হতে পারেন আপনি। তারপর অটোর সাথে আলোচনা করে নিবেন। যাতে তিন বা চার ঘণ্টার মধ্যে সব জায়গায় আপনাদের নিয়ে যায়। আপনি দরদাম করে ভাড়া মিটিয়ে তবেই উঠুন। রিজার্ভ ঘণ্টা প্রতি ১২০-১৫০-এর মতো নেবে। ৬-৮ জন যাওয়া যাবে। মাওরা হোটেল রেল স্টেশনের সাথেই আছে বোস কেবিন।

ভ্রমণ পরিকল্পনাটি যেভাবে করতে পারেন

সকাল ১০টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছে প্রথমে নদী পার হয়ে জায়গাগুলো ঘুরে দেখবেন। এরপর দুপুর ২টার দিকে ওখান থেকে রওনা হয়ে দুপুর ৩টার মধ্যে নদীর এপারে চলে এসে বিখ্যাত মাওরা হোটেলে গরু ভুনা আর কচু শাক দিয়ে অসাধারণভাবে এক বেলা খেয়ে নিন। তারপর বের হয়ে নদীর এপারের দৃশ্য দেখুন, ফেরার সময় অবশ্যই সারাজীবন মনে রাখার মতো বোস কেবিনের কাটলেট খেয়ে আসতে ভুলবেন না।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/এমএইচএস/জেবি